Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়া শহরের তিন শ্মশানকালীর পুজো ঘিরে মেতে ওঠেন বাসিন্দারা, বসে মেলা

বাঁকুড়া শহরের মহাশ্মশানগুলির পুজোকে কেন্দ্র করে মেতে উঠেছে জেলাবাসী। লক্ষ্যাতোড়া, পলাশতলা ও লোকপুরের কালীপুজোয় দর্শনার্থীর ঢল নামে। তিন জায়গাতেই মেলা বসে।

বাঁকুড়া শহরের তিন শ্মশানকালীর পুজো ঘিরে মেতে ওঠেন বাসিন্দারা, বসে মেলা
  • ২০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া শহরের মহাশ্মশানগুলির পুজোকে কেন্দ্র করে মেতে উঠেছে জেলাবাসী। লক্ষ্যাতোড়া, পলাশতলা ও লোকপুরের কালীপুজোয় দর্শনার্থীর ঢল নামে। তিন জায়গাতেই মেলা বসে। ওই তিন মহাশ্মশানের পুজোয় আলোকসজ্জা সকলের নজর কাড়ে। বিগ বাজেটের ওইসব কালীপুজো জাঁকজমকে যে কোনও থিমের মণ্ডপকে হারিয়ে দেবে। এছাড়াও শহর ও সংলগ্ন পাতাকোলা, মিনাপুর সহ অন্যান্য শ্মশানকালীর পুজোও আচার মেনে করা হয়।
লক্ষ্যাতোড়া মহাশ্মশানের পুজো ২৫০ বছরেরও বেশি পুরনো। শ্মশানের মূল মন্দিরে দেবী ভবতারিণীরূপে পূজিত হন। এছাড়াও শ্মশান চত্বরে তারা সহ দশ মহাবিদ্যার অন্যান্য রূপের আরও চারটি মন্দির রয়েছে। সেগুলিতেও কালীপুজো হয়। একসময় এক তন্ত্রসাধক বুকের রক্ত দিয়ে দেবীর নিত্যপুজো করতেন। পুজো কমিটির সম্পাদক অভিজিৎ দত্ত বলেন, একসময় ডাকাতরা ওই পুজো করত। ২০০২ সালে কমিটি গঠন করে পুজো শুরু হয়। এবারের পুজোর বাজেট ৪০ লক্ষ টাকা। পুজো উপলক্ষ্যে সতীঘাট বাইপাসে বিশাল মেলা বসে। সাতদিন ধরে মেলা চলে। পুজোর আগের দিন বিকেলে শুশুনিয়া পাহাড় থেকে জল আনা হয়। শহরের পাঁচবাগা এলাকায় সেই জল মঙ্গলঘটে ভরা হয়। সেখানে থেকে দু’ হাজার মহিলা মাথায় মঙ্গলঘট নিয়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে শোভাযাত্রা করেন। শোভাযাত্রার জন্য কলকাতা ও কৃষ্ণনগর থেকে বাজনা আনা হয়। পুজোয় চন্দননগরের আলো বিশেষ আকর্ষণ। 
লোকপুর মহাশ্মশানের পুজো প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৫২ সালে। কথিত আছে, প্রতিষ্ঠাতা রামকরণ ভকতকে দেবী স্বপ্নাদেশ দিয়ে পুজো শুরু করতে বলেন। সেইমতো পুজো চালু হয়। একসময় হ্যারিকেন জ্বালিয়ে হতো পুজো। দ্বারকেশ্বর নদ সংলগ্ন গোটা এলাকা ঝোপজঙ্গলে ভরা ছিল। ফলে ভয়ে কেউ ওই তল্লাটে যেত না। বর্তমানে অবশ্য আলোর রোশনাইয়ে পুজোর ক’ টা দিন এলাকা আলোকিত হয়ে ওঠে। মেলায় বহু মানুষের সমাগম হয়। পুজো কমিটির সম্পাদক সোমনাথ ভকত বলেন, মন্দিরে মা শ্যামাকালী রূপে পূজিত হন। ফলে বলিদান হয় না। এবার মন্দিরের    আদলে বাঁশ, বাটাম, কাপড় দিয়ে মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। পুজোর বাজেট ছ’ লক্ষ টাকা। আগে দেবীর চিন্ময়ী রূপ ছিল। কয়েকবছর আগে রাজস্থান থেকে পাথরের প্রতিমা আনা হয়েছে। তা ফি বছর রং করা হয়। পুজোর পরদিন মণ্ডপ প্রাঙ্গণে পাঁচ হাজার লোককে নরনারায়ণ সেবা করানো হবে।  শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে গন্ধেশ্বরী নদীর তীরে রয়েছে পলাশতলা মহাশ্মশান। সেখানে গত ৩০০ বছর ধরে শ্মশানকালী পুজিত হচ্ছেন। ঠাকুর দালানের গায়ে দেবীর সিমেন্টের মূর্তি রয়েছে। এবার ওই পুজোর বাজেট চার লক্ষ টাকা। পুজো কমিটির সম্পাদক বাপী মালাকার বলেন, জুনবেদিয়া-সতীঘাট বাইপাস থেকে শ্মশান পর্যন্ত আলোর গেট করা হয়। শ্মশানজুড়ে আলোকসজ্জা থাকে। এবার মন্দির ও শ্মশানের দেওয়ালজুড়ে আঁকা বিখ্যাত সব কার্টুন চরিত্র কচিকাঁচাদের বিনোদন দেবে। পুজোর পর ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত প্রতিবার প্রায় ছ’ হাজার ভক্ত প্রসাদ গ্রহণ করেন। পাঁচ দিন ধরে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শ্মশানচত্বরে মেলা বসে। রবিবার থেকেই শ্মশানগুলিতে দর্শনার্থীর ঢল নামে। এক সপ্তাহ ধরে মেলা ও দর্শনার্থী সমাগম চলবে। 

Advertisement

(ছবি -খাতড়ার শ্মশানকালী।) 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ