Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রান্না থেকে খাওয়া, মাছির দাপটে মশারির ভিতরে দিন কাটে ৬টি গ্রামের বাসিন্দাদের

রান্না থেকে খাওয়া, মাছির দাপটে মশারির ভিতরে দিন কাটে ৬টি গ্রামের বাসিন্দাদের
  • ২৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ঘর-বারান্দা থেকে উঠোন, কোথাও নিস্তার নেই। দিন-রাত চারদিকে ভনভন করছে মাছি। আর তাই বাধ্য হয়ে মশারি টাঙিয়ে চলছে রান্নাবান্না থেকে খাওয়াদাওয়া। পরিস্থিতি এমনই যে, কার্যত ‘মশারি বন্দি’ জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের সন্ন্যাসীকাটা অঞ্চলের ছ’টি গ্রাম। বাসিন্দাদের অভিযোগ, মশারি না টাঙিয়ে রাখলে পাতে পড়ছে মাছি। ভরে যাচ্ছে ঘরদোর। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার ময়দানে নেমেছে প্রশাসন। এদিন এলাকায় পরিদর্শনে যান পতঙ্গবিদরা। মাছির দাপট রুখতে শুরু হয়েছে স্প্রে করার কাজ। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এলাকায় ইতিমধ্যেই মাছিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। পেট খারাপ নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন ভর্তি হয়েছে হাসপাতালে। পেটের সমস্যায় আক্রান্ত অন্তত জনা পনেরো বাসিন্দা।

Advertisement

কিন্তু আচমকা কেন এই মাছির উপদ্রব? সন্ন্যাসীকাটা অঞ্চলের চেকরমারি গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাঁদের এলাকায় সম্প্রতি একটি পোলট্রি ফার্ম হয়েছে। ওই ফার্মের মুরগির বর্জ্যের কারণে মাছি ছড়াচ্ছে। শুধু চেকরমারি নয়, তেলকুগছ, বাইনগছ, জমাদারগছ, নবগ্রাম সহ আশপাশের ছ’টি গ্রামে চরমে উঠেছে মাছির দাপট। স্থানীয় বাসিন্দা অরবিন্দ সরকার, শিখা মণ্ডলের দাবি, আগে মাছি ছিল না। পোলট্রি ফার্ম হওয়ার পর থেকেই মাছির দাপটে অতিষ্ঠ হতে হচ্ছে। রান্নাবান্না, খাওয়াদাওয়া কিছুই করা যাচ্ছে না। ফার্ম কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও সুরাহা হয়নি। 
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য রুবা খানম বলেন, মাছির দাপট রুখতে প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। এদিন এলাকায় স্প্রে হয়। তাতে মাছির দাপট একটু কমেছে। পোলট্রি ফার্ম কর্তৃপক্ষকে চারদিকে মশারি দিয়ে ঘিরে দিতে বলা হয়েছে। এদিকে, প্রশাসনের নির্দেশ মতো খামারের চারদিকে মশারি দিয়ে শীঘ্রই ঘিরে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ওই পোলট্রি ফার্ম কর্তৃপক্ষ। রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন বলেন, সন্ন্যাসীকাটা অঞ্চলের কয়েকটি গ্রামে পোলট্রি ফার্মের কারণে মাছির উপদ্রব হয়েছে বলে এলাকার মানুষ জানান। প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও স্বাস্থ্যদপ্তরের টিম এলাকায় রয়েছে। ব্লক প্রশাসনের তরফেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিন গ্রামগুলিতে স্প্রে করা হয়।
সন্ন্যাসীকাটা এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য জীতেন সরকার বলেন, আমরা পোলট্রি ফার্মের বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু ওই ফার্মের কারণে এলাকায় মাছির উপদ্রব হবে, মানুষজন পেটের রোগে আক্রান্ত হবে, তা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। ফার্ম কর্তৃপক্ষ যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়, সেক্ষেত্রে আমরা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাব। 
তৃণমূলের সন্ন্যাসীকাটা অঞ্চল সভাপতি রোশন হাবিব বলেন, মাছির দাপট রুখতে প্রশাসনের তরফে স্প্রে করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ