Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শ্রীচৈতন্যের পদধূলি ধন্য কাঞ্চনগড়িয়া গ্রামে আমিষ খান না বাসিন্দারাই

শ্রীচৈতন্যদেব শুধু এই গ্রামে পদধূলি দিয়েছিলেন তাই নয়। স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রেখে গিয়েছেন তাঁর দান করা হরিতকি বৃক্ষ। এমনটাই বিশ্বাস করেন ভরতপুর ১ ব্লকের কাঞ্চনগড়িয়া গ্রামের বাসিন্দারা।

শ্রীচৈতন্যের পদধূলি ধন্য কাঞ্চনগড়িয়া গ্রামে আমিষ খান না বাসিন্দারাই
  • ২৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: শ্রীচৈতন্যদেব শুধু এই গ্রামে পদধূলি দিয়েছিলেন তাই নয়। স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রেখে গিয়েছেন তাঁর দান করা হরিতকি বৃক্ষ। এমনটাই বিশ্বাস করেন ভরতপুর ১ ব্লকের কাঞ্চনগড়িয়া গ্রামের বাসিন্দারা। মহাপ্রভুর স্মৃতি বিজরিত ওই হরিতকি গাছ দেখতে বছরভর বহু পর্যটক গ্রামে আসেন। মহাপ্রভু এই গ্রামের আসার পর থেকে এখানে আমিষ রান্না পুরোপুরি নিষিদ্ধ। আমিষ খেতে গেলে যেতে হয় গ্রামের বাইরে। এটাই এখানকার বহুবছরের প্রথা।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রীচৈতন্যদেব এই গ্রামে এসেছিলেন। গ্রামের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের বিগ্রহকে নিজ হাতে সেবাও দিয়েছিলেন। দুপুরের আহারও করেন তিনি এখানে। পরে সকল ভক্তদের মুখশুদ্ধি হিসেবে হরিতকি দান করেন। শেষে হরিতকির একটি বীজ দান করেন শ্রী দ্বিজহরি দাসকে। ওই বীজ মন্দির চত্বরে রোপণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মহাপ্রভু। শ্রীচৈতন্যদেবের ইচ্ছানুসারে পরবর্তীতে মন্দির চত্বরের ঈশান কোণে হরিতকির ওই বীজ রোপণ করা হয়। সেটি আজ বিশাল বনস্পতি হয়ে উঠেছে। ওই হরিকতির গাছ দেখতেই বছরভর পর্যটকরা গ্রামে আসেন এবং মহাপ্রভুর প্রসাদ হিসেবে ওই গাছের হরিতকি সংগ্রহও করেন। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত মহন্ত বাপি বন্দোপাধ্যায় বলেন, শ্রী দ্বিজহরি দাস মহাপ্রভুর নির্দেশ মতো হরিতকি গাছ রোপণ করেছিলেন। মহাপ্রভু গ্রামে এসে দুপুরে হেলেঞ্চা শাক, ডাল, আলুসেদ্ধ দিয়ে অন্নগ্রহণ করেছিলেন বলে জনশ্রুতি।
প্রসঙ্গত, ভরতপুর লোহাদহঘাট গ্রামীণ রাস্তার পাশেই রয়েছে কাঞ্চনগড়িয়া গ্রাম। গ্রামের ঢালাই রাস্তা ধরে প্রায় ৫০০ মিটার যাওয়ার পর পরে রাধাগোবিন্দের মন্দির। সেখানেই ওই হরিতকি গাছ। গাছের বেদি কংক্রিটে বাঁধানো।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই গ্রামে শুধু যে আমিষ খাওয়ায় বারণ তাই নয়, গ্রামে পশুপালন ও পশুবলিও নিষিদ্ধ। কোনও পরিবার আমিষ খেতে চাইলে যেতে হবে গ্রামের বাইরে মাঠে। সেখানে খাওয়াদাওয়ার পর স্নান করে ও কাপড় কেচে গ্রামে ঢুকতে হবে। রান্নার বাসনপত্রও মেজেঘষে পরিষ্কার করতে হবে গ্রামে ঢোকার আগে। প্রৌঢ়া মায়ারানি পাল বলেন, গ্রামের ৮০ ভাগ পরিবারই নিরামিষভোজি। তবে বাড়িতে জামাই বা আত্মীয়স্বজন এলে তাঁদের আপ্যায়নে আমিষ খাওয়াদাওয়া হয়ে থাকে, তবে তা গ্রামের বাইরে করতে হয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ