সংবাদদাতা, মানিকচক: জনতার বিক্ষোভে দু’দিন চেষ্টা করেও বাঁধের কাজ শুরু করতে পারেনি সেচদপ্তর। এদিকে ভাঙনে ক্রমশ ঘরবাড়ি গিলছে নদী। এই পরিস্থিতিতে ভিটেমাটি রক্ষায় বাঁধের কাজ শুরু করার পক্ষে রতুয়ার পশ্চিম রতনপুরের বাসিন্দারা। তাই কোনওভাবে যাতে কেউ সেই কাজে বাধা দিতে না পারেন, সেজন্য গ্রামে নদীর ধারে লাঠি হাতে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী।
অভিযোগ, ভূতনির উত্তর চণ্ডীপুরের বাসিন্দারা গ্রামে এসে জোর করে কাজ বন্ধ করেছিলেন। বাসিন্দাদের দাবি, বহিরাগত কিছু সুবিধাবাদী ভাঙন রোধের কাজ হতে দিতে চায় না। তাদের রুখতেই এই পাহারা। দ্রুত ভাঙন রোধের কাজ না হলে পশ্চিম রতনপুর গ্রাম থাকবে না। এমনকী নবনির্মিত রিং বাঁধও বাঁচবে না বলে মনে করছেন বাসিন্দারা।
একদিকে প্রতিনিয়ত গঙ্গার জল বাড়ছে, অন্যদিকে অব্যাহত ভাঙনও। তার উপর জনতার বিক্ষোভে ভাঙন রোধের কাজও বন্ধ। রতুয়া-১ ব্লকের ব্লকের পশ্চিম রতনপুরে এক সপ্তাহ ধরে অব্যাহত কোশি নদীর ভাঙন। এর ফলে প্রায় শতাধিক বাড়ি তলিয়েছে নদীগর্ভে। ভাঙন রুখতে বালির বস্তার মাধ্যমে কাজ শুরু করে সেচদপ্তর। তবে, তাতে কাজ না হওয়ায় সোমবার রুখে দাঁড়ান উত্তর চণ্ডীপুরের বাসিন্দারা। শ্রমিকদের তাড়া করে বন্ধ করে দেওয়া হয় কাজ। মঙ্গলবার বিক্ষোভের জেরে আর কাজ হয়নি। দু’দিন ধরে ভাঙন রোধের কাজ বন্ধ থাকায় পশ্চিম রতনপুরে বিস্তীর্ণ অংশে পাড় ভাঙছে। তাই এবার ভাঙন রোধের কাজের দাবিতে উত্তর চণ্ডীপুরের বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন পশ্চিম রতনপুরের বাসিন্দারা। বুধবার গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নদী তীরবর্তী জায়গায় বাঁশ ও লাঠি নিয়ে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, উত্তর চণ্ডীপুরের দুষ্কৃতীদের তাঁরা এলাকায় ঢুকতে দেবেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা নিতাই চৌধুরী বলেন, আমরা বাড়ি সরিয়ে নিতে ব্যস্ত ছিলাম। তার মাঝে উত্তর চণ্ডীপুরের কিছু সুবিধাবাদী ইচ্ছাকৃতভাবে নদী ভাঙন রোধের কাজ বন্ধ করিয়েছে। তাই লাঠি নিয়ে পাহারা দিচ্ছি। তারা এলেই রুখে দেওয়া হবে।
যদিও এর পিছনে অন্য গন্ধ পাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিলাইমারী গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রামলাল চৌধুরী। তাঁর কথায়, উত্তর চণ্ডীপুরের কিছু লোক এখানে জোর করে কাজ নিতে চান। তাঁদের উস্কানিতেই কাজটি বন্ধ হয়েছে। আমরা এলাকায় ছিলাম না। সেই সুযোগে তারা বিক্ষোভ দেখিয়ে কাজ বন্ধ করেছে। কাজ হলে কিছুটা ভাঙন রোখা যেত।
এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভূতনি থানার পুলিস রয়েছে। গ্রামবাসীদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন মালদহ জেলা সেচদপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার শিবনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, গ্রামবাসীরা প্রশাসনের পাশে দাঁড়িয়েছে শুনে খুশি হয়েছি। বৃহস্পতিবার থেকে দ্রুতগতিতে ভাঙন রোধের কাজ শুরু করব। লাঠি নিয়ে প্রহরায় গ্রামবাসী। - নিজস্ব চিত্র।