সংবাদদাতা, কান্দি: বন্যার কারণে আমন ধান কার্যত কোনও বছরই ঘরে ওঠে না। কিন্তু সেখানকার চার ফসলি জমি বাসিন্দাদের কাছে বড়ই সুখের। সেই সুখ ছেড়ে বছর বছর বন্যা সত্ত্বেও মাটি কামড়ে পড়ে থাকেন ভরতপুর ১ ব্লকের সুখদানপুরের বাসিন্দারা।
সংবাদদাতা, কান্দি: বন্যার কারণে আমন ধান কার্যত কোনও বছরই ঘরে ওঠে না। কিন্তু সেখানকার চার ফসলি জমি বাসিন্দাদের কাছে বড়ই সুখের। সেই সুখ ছেড়ে বছর বছর বন্যা সত্ত্বেও মাটি কামড়ে পড়ে থাকেন ভরতপুর ১ ব্লকের সুখদানপুরের বাসিন্দারা।
বর্তমানে ওই গ্রামে রয়েছে প্রায় ৮০টি পরিবার। কুয়ে নদীর একেবারে মাঝামাঝি এই গ্রামটি একটি উঁচু ঢিবির মতো। সেখানেই বহু বছর ধরে বসবাস করছেন তাঁরা। অধিকাংশ বাসিন্দা কৃষিকার্যের উপর নির্ভরশীল। ভোটার প্রায় ৩০০ জন। অনেকে আবার কুয়ে নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কার্যত প্রতি বর্ষাতেই এই গ্রাম জলবন্দি হয়ে পড়ে। বন্যায় বিস্তীর্ণ কৃষিজমি জলমগ্ন হয়ে থাকে মাসভর। এবছরও যার ব্যতিক্রম হয়নি। ফলে আমন ধান লাগান হলেও সেগুলি জমিতেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা হৃদয় মাঝি বলেন, এবছর এখানকার একটি জমিতেও আমন ধান বেঁচে নেই। ফের নতুন করে কয়েকজন লাগালেও বাকি জমি ফাঁকা পড়ে আছে। তবে ধান গেলেও চিন্তা নেই। অন্য ফসল ভালো হবে। তাতেই পুষিয়ে যাবে। প্রসঙ্গত, প্রতিবছর ওই এলাকা বন্যায় ভেসে যাওয়ার জন্য জমিতে প্রচুর পরিমাণ পলি পড়ে। যা কৃষি কার্যের পক্ষে আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়। বছরের আউশ ও বোবো ধানের সঙ্গে শীতকালীন সমস্ত ধরনের চাষ হয়ে থাকে গ্রামের মাঠে। উৎপাদিত ফসল পৌঁছয় বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন বাজারে। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা জীবন মাঝি বলেন, এই সুখ ছেড়ে আমি কোনওদিন অন্য কোথাও যাওয়ার চেষ্টা করিনি। আমার ছেলেদেরও একই ভাবনা। বছরের তিনটি মাস কষ্ট করলেই বাকি ন’ মাস শুধুই সুখ এখানে। যে কারণে গ্রামের নাম রাখা হয়েছে সুখদানপুর।
স্থানীয় গড্ডা পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ভুমি বেগম মোল্লা জানান, আধুনিক জগতের সমস্ত পরিষেবা ওই গ্রামে পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে অ্যানড্রয়েড মোবাইল। গ্রামে স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রও রয়েছে। গ্রামের যুবক যুবতীদের অনেকে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন। অনেকের বাড়িতে বাইকও রয়েছে। তবে বন্যার মাসগুলি তাঁদের কষ্টের শেষ থাকে না। ভরতপুর ১ বিডিও দাওয়া শেরপা জানান, ওখানে পানীয় জলের সমস্যা মেটানো হয়েছে। গ্রামে যাওয়ার ঢালাই রাস্তাও হয়েছে।