সংবাদদাতা, মানকর: রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী জয়দেব কেঁদুলির মেলায় প্রতি বছর লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। সেই মেলায় যাতায়াতের জন্য মঙ্গলবার বেলা ১২টা নাগাদ অজয় নদের উপর অস্থায়ী সেতুর দাবিতে সরব হলেন জয়দেব মেলা সনাতনী ঐতিহ্য ও ন্যায্য অধিকার রক্ষা কমিটি। এদিন কাঁকসার নবগ্রামের কাছে রাস্তায় টায়ার পুড়িয়ে বিক্ষোভে নামেন সংগঠনের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, মেলা আর কয়েকদিন বাকি। অথচ এখনও প্রশাসনের অস্থায়ী সেতু নির্মাণের কোনও উদ্যোগ নেই। বিক্ষোভের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে জয়দেব সেতুর রাস্তা। ফলে ব্যাপক সমস্যায় পড়েন নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ যাত্রীরা। বিষয়টি নিয়ে কাঁকসার বিডিও সৌরভ গুপ্ত বলেন, অস্থায়ী সেতু নিয়ে আমরা সেচ দপ্তরকে জানিয়েছিলাম। ওনারা জেলা থেকে এসেছিলেন। কিন্তু সেচ দপ্তর জানিয়েছে ওই অস্থায়ী সেতুর অনেকটা অংশ ভেঙে গিয়েছে। সেতু ভালোভাবে করতে গেলে প্রায় একমাস সময় লাগবে এবং যথেষ্ট ব্যায়বহুল।
অজয় নদের একদিকে পশ্চিম বর্ধমানের শিবপুর অন্যদিকে বীরভূমের জয়দেব। মাঝে অজয় নদ। দুই জেলার মানুষকে নানা প্রয়োজনে অজয় নদ পেরিয়ে যেতে হয়। পারাপারের জন্য ভরসা ছিল অস্থায়ী সেতু। কিন্তু বর্ষার শুরুতেই নদের জল বাড়ার ফলে সেই সেতু ভেসে যেত। যাতায়াত প্রায় বন্ধই হয়ে যেত। দুই এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এখন নদের উপর স্থায়ী সেতু তৈরি করা হয়েছে। গত জুলাই মাসে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সেই বহু প্রতীক্ষিত সেতু উদ্বোধন করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এলাকাবাসীর আবেগকে মর্যাদা দিয়ে সেতুর নামকরণ হয়েছে জয়দেব সেতু। স্থায়ী সেতু তৈরি হয়ে যাওয়ায় গুরুত্ব হারায় অস্থায়ী সেতুটি। কিন্তু এখন মেলাকে কেন্দ্র করে ফের অস্থায়ী সেতুর তৈরির দাবি উঠছে।
দিন পনেরো আগে স্থানীয়রা দাবি করেন, স্থায়ী সেতু হয়েছে। কিন্তু নদের পাড়ের বাসিন্দাদের সেতু দিয়ে মেলা যেতে প্রায় অতিরিক্ত পাঁচ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হবে। এলাকার অনেকে মেলায় দোকানও দেয়। অস্থায়ী সেতু না হলে আত্মীয়দের নিয়ে মেলা দেখতে যাওয়া বা ব্যবসা দুটোই সমস্যা হবে। সেই দাবিকে মান্যতা দিয়ে ওই এলাকা সহ অজয় ঘাট পরিদর্শন করেন বিধায়ক নেপাল ঘোড়ুই সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা। কিন্তু এদিন বিক্ষোভের জেরে স্তব্ধ হয়ে যায় এলাকা। বিক্ষোভকারী জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই মেলা ঐতিহাসিক। মেলাকে কেন্দ্র করে গরীব মানুষদের রুজি রোজগার চলত। কিন্তু মেলাকে বন্ধ করার চক্রান্ত করছে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে বিদবিহার গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য স্বপন সূত্রধর বলেন, আমরাও রাস্তা চাই। আমরা ব্লক প্রশাসন, মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের কাছে গিয়েছি। ওনারা দেখছেন।
এদিন রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ চলে। পরে কাঁকসা থানার পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরাতে গেলে ব্যাপক বচসার পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রায় এক ঘন্টা পর পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। বিক্ষোভের জেরে এদিন বীরভূম ও দুর্গাপুরগামী দু’দিকের রাস্তাতেই আটকে পড়ে বহু বাইক, গাড়ি। ভোগান্তির শিকার হতে হয় তাঁদের। এক বাইক আরোহী বলেন, দুর্গাপুরে একটি বেসরকারি স্কুলে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল। এখানে আটকে পড়ায় সমস্যা হল। বিক্ষোভকারীদের দাবি, সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে হবে। জয়দেব মেলা উপলক্ষ্যে অজয় নদে অস্থায়ী সেতুর দাবিতে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ।-নিজস্ব চিত্র