নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ৬৫ বছরের পুরনো রামকৃষ্ণ সেতুর বিপর্যয়ে দ্বিতীয় সেতুর দাবিতে সরব বিভিন্ন মহল। আরামবাগের রাজনৈতিক দলগুলিও একই দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। পূর্তদপ্তরের আশ্বাস, দাবি খতিয়ে দেখছে রাজ্য। রাস্তাঘাটে, চায়ের দোকানে এখন আলোচনার কেন্দ্রে শুধুই রামকৃষ্ণ সেতু। প্রায় আড়াই মাস আগে সেতু বিপর্যয়ের জেরে দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা। তাই দ্বিতীয় সেতুর সম্ভাবনা নিয়ে চর্চা চলছে নানা মহলে। সেই আবহেই সমালোচনার সুর চড়াচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।
বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুশান্ত বেরা বলেন, রামকৃষ্ণ সেতুর সংস্কারের অগ্রগতি নিয়ে আমরা ধোঁয়াশায় রয়েছি। নতুন ব্রিজের ঘোষণাও এখনও শোনা যায়নি। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে নতুন ব্রিজ তৈরির দাবি জানিয়ে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই এইব্যাপারে সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলে আন্দোলনও হবে। তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দী জানান, মুখ্যমন্ত্রীর আরামবাগের দিকে নজর রয়েছে। না চাইতেই তিনি অনেক জনমুখী প্রকল্প আরামবাগের জন্য বরাদ্দ করেছেন। আরামবাগে মেডিক্যাল কলেজ, চাঁপাডাঙা পর্যন্ত ফোর লেন রাস্তা এখনও স্বপ্নের মতোই। রামকৃষ্ণ সেতুর সংস্কার করছে পূর্তদপ্তর। দ্বিতীয় একটি সেতুর কথা আমরাও সংশ্লিষ্ট জায়গায় জানিয়েছি। উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট রাতে আরামবাগের পল্লিশ্রীতে দ্বারকেশ্বর নদের উপর রামকৃষ্ণ সেতুর গার্ডওয়ালের একাংশ ভেঙে পড়ে। তারপর তা দিয়ে ভারী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই মাসের বেশি সময় ধরে বাস চলাচলও বন্ধ হয়। তাতে ক্ষতির মুখে পড়ে পরিবহণ, ব্যবসা সহ নানা বিষয়। এরপর বাস মালিক সংগঠন দু’ দিন ধর্মঘট করলে বাস চালানোর ছাড়পত্র দেয় রাজ্য। বর্তমানে সেতুর সংস্কারের জন্য বিকল্প একটি অস্থায়ী সেতুর পরিকল্পনা করেছে পূর্তদপ্তর। সেইজন্য সার্ভেও করা হচ্ছে। কিন্তু বেহাল ও দুর্বল সেতু দিয়ে যান চলাচলের ভবিষ্যত নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। পূর্তদপ্তরের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, রামকৃষ্ণ সেতুর পাশে দ্বিতীয় সেতু তৈরির সম্ভবনা খতিয়ে দেখছে রাজ্য। ইতিমধ্যেই পূর্তদপ্তরের কর্তারা রামকৃষ্ণ সেতু একাধিকবার পরিদর্শন করেছেন।
পূর্তদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রামকৃষ্ণ সেতু লম্বায় ৩২৫ মিটার। চওড়ায় সাত মিটার। বর্তমানে তার বয়স ৬৫ বছর। কিন্তু নিত্যদিন সেতু দিয়েযান চলাচলবাড়ছে। ওভারলোডেড লরি যাতায়াতও করে। আরামবাগের এই সেতু সরাসরি সংযোগ করেছে বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান জেলাকে। দক্ষিণবঙ্গ থেকে কলকাতা যাতায়াতেও এই সেতু অন্যতম ভরসা। তাই দ্বিতীয় সেতুর দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। আরামবাগের বাসিন্দা রাহুল রায়, প্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা বলেন, বছর কয়েক আগে দ্বিতীয় সেতু নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। তার প্রাথমিক সমীক্ষাও করা হয়েছিল বলে শোনা যায়। কিন্তু আর কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি। দুই মাসের বেশি সময় ধরে আমাদের যাতায়াত নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাই দ্বিতীয় সেতু অবশ্যই প্রয়োজন।