Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আরামবাগের দক্ষিণ নারায়ণপুরে কানা মুণ্ডেশ্বরীর বাঁধ সংস্কারের দাবি স্থীনীয়দের

কানা মুণ্ডেশ্বরী নদীর জলের চাপে ভাঙছে বাঁধ। সেই বাঁধের উপর রয়েছে পিচের রাস্তা। ধীরে ধীরে তাও নদীর গ্রাসে যেতে বসেছে

আরামবাগের দক্ষিণ নারায়ণপুরে কানা মুণ্ডেশ্বরীর বাঁধ সংস্কারের দাবি স্থীনীয়দের
  • ১ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: কানা মুণ্ডেশ্বরী নদীর জলের চাপে ভাঙছে বাঁধ। সেই বাঁধের উপর রয়েছে পিচের রাস্তা। ধীরে ধীরে তাও নদীর গ্রাসে যেতে বসেছে। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, কোনওভাবে ওই রাস্তা নদী গর্ভে গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন বিচ্ছিন্ন হবে, তেমনই প্লাবিত হবে বেশ কয়েকটি এলাকা। ওই বাঁধ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরত্বেই রয়েছে গ্রামীণ হাসপাতাল। তাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বর্ষার আগে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে আরামবাগের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের। আরামবাগের আরাণ্ডি-২ পঞ্চায়েতের দক্ষিণ নারায়ণপুর গ্রামে বাঁধের উপর রাস্তা দিয়ে বর্তমানে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলছে যাতায়াত। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের আর্জি, দ্রুত বাঁধ সংস্কার করুক প্রশাসন। 

Advertisement

শনিবার গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, দক্ষিণ নারায়ণপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গা ঘেঁষে গিয়েছে নদীর বাঁধের উপর পিচ রাস্তা। সেটি হিয়াতপুর পর্যন্ত গিয়েছে। নদী বাঁধের দু’পাশেই ভাঙন ধরেছে। বাঁধের রাস্তার বেশকিছু অংশ ভেঙে গিয়ে তা সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁধ মেরামতির জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। বহুবার সরকারি অধিকারিকরা পরিদর্শন করলেও বাঁধ মেরামতি নিয়ে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। তার জেরে বর্ষার আগে চিন্তায় পড়েছেন দক্ষিণ নারায়ণপুর সহ বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা। 
স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত চৌধুরী, নির্মলকুমার হাটি বলেন, কানা মুণ্ডেশ্বরী নদী বর্ষার সময় প্রায় প্রত্যেক বছরই ফুলে ফেঁপে ওঠে। বছর কয়েক আগে বাঁধের একটি বড় অংশ ভেঙে যায়। প্রশাসন শালবল্লা দিয়ে বাঁধ মেরামত করেছিল। কিন্তু, গত বছর ভাঙনে অনেকটা এলাকা নদী গর্ভে চলে যায়। বর্তমানে রাস্তার ওই অংশ সরু হয়ে গিয়েছে। চারচাকা গাড়িগুলি অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এবার বর্ষায় সেই যাতায়াতও বন্ধ হয়ে যাবে। তারসঙ্গে আট থেকে ১০টি গ্রাম ব্যাপকভাবে প্লাবিত হবে। হাসপাতালে যাতায়াতও বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শিশির সরকার বলেন, দক্ষিণ নারায়ণপুর গ্রামের বাঁধের বিষয়টি পরিকল্পনায় রয়েছে। মেরামতির জন্য সেচদপ্তরকে জানানো হয়েছে। 
বিএমওএইচ অনুপম বিশ্বাস বলেন, গত বছর হাসপাতালের বারান্দায় নদীর জল ঢুকেছিল। চত্বরে একটি বিকল্প ভবনের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে বাঁধ মেরামতি হলেও ভালো হয়। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিভিসির ছাড়া জল ও অতি বৃষ্টিতে আরামবাগ মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা প্রত্যেক বছরই প্লাবিত হয়। গত বছর নদী বাঁধে ভাঙন হয়। দক্ষিণ নারায়ণপুর হাসপাতাল চত্বরের একাংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু, তারপর প্রায় এক বছর কাটতে চললেও বাঁধ মেরামতিতে গড়িমসি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন বাসিন্দারা। বাঁধের ওই রাস্তা দিয়েই হিয়াতপুর, হেলান, চন্দ্রবান সহ খানাকুল-১ ব্লকের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা দক্ষিণ নারায়ণপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন। তারসঙ্গে বাজার, ব্যাঙ্কেও আসতে হয় ওই বাঁধের রাস্তা দিয়েই। এবার বর্ষায় বাঁধ ভাঙলে দক্ষিণ নারায়ণপুর সহ পুড়া, সাতমাসা প্রভৃতি গ্রামগুলিও জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।  আরামবাগের দক্ষিণ নারায়ণপুর গ্রামে কানা মুণ্ডেশ্বরী নদীর বাঁধ ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ