নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সার্বিকভাবে পাশে আছে প্রশাসন। শুধু আশ্বাস শুনে নয়, প্রশাসনের তৎপরতা দেখে ঘরে ফিরছেন ধুলিয়ান তথা সামশেরগঞ্জবাসী। ধুলিয়ান পুর এলাকা এবং সামশেরগঞ্জ ব্লকের প্রতিটি কোণায় কোণায় পৌঁছে যাচ্ছে প্রশাসনের আধিকারিকরা। মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র, অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) দীননারায়ণ ঘোষ, জঙ্গিপুরের মহাকুমা শাসক একাম জে সিং সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা আপ্রাণ চেষ্টা করছে মানুষের জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনার। সামশেরগঞ্জ থানা এলাকায় অশান্তির পর বহু ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ঘটনার একদিন পর থেকেই প্রশাসন ঝাঁপিয়ে পড়েছে। যারা ঘর ছেড়েছে তাদের ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করে। পাশাপশি অসহায়দের পাশে থেকে ত্রাণ তুলে দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবারই ২৬০টি পরিবারের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে প্রশাসনের আধিকারিকরা বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে যান। এলাকায় ত্রাণ আসছে দেখে অনেকেই প্রশাসনের কাছে এসে সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন। এদিন ঘরছাড়া আরও ৮৫ জন নিজেদের বাড়িতে ফিরে এসেছে বলেই জানা গিয়েছে।
প্রশাসনসূত্রে জানা গিয়েছে, দৈনন্দিন কাজে লাগে এমন প্রায় ২০ রকমের সামগ্রী ত্রাণ হিসেবে তুলে দেওয়া হচ্ছে প্রতিটি পরিবারের হাতে। ব্রাশ-পেস্ট, সাবান, শ্যাম্পু, চাল-ডাল, তেল, চিড়ে, মুড়ি, চিনি, লবণ, ত্রিপল, কম্বল, চাদর, ইলেক্ট্রিকের তার, সুইচ, বাল্ব, কেরোসিন, স্টোভ সবকিছুই দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কিছু পরিবারের হাতে লুঙ্গি, কাপড়, গামছা ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পোশাক পরিচ্ছদও দেওয়া হয়েছে। অনেক বাড়িতে ইলেক্ট্রিকের মিটার থেকে পোস্টের তার ছিঁড়ে দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ দপ্তরের তরফে সেগুলি বিনামূল্যে দ্রুত লাগিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। যে সমস্ত বাড়ির চালে সমস্যা হয়েছে, সেগুলি ত্রিপল দিয়ে মুড়ে বসবাসের উপযোগী করা হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। দুয়ারে রেশনের মাধ্যমে প্রতিটি পাড়ায় চাল গম পৌঁছে দেওয়া শুরু হয়েছে। যাদের বাড়িতে রান্না-বান্না করার পরিস্থিতি নেই, তাদের জন্য দু’টি কমিউনিটি কিচেন চালু করা হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিদিনই শতাধিক মানুষ খাবার নিচ্ছেন।
অতিরিক্ত জেলাশাসক দীননারায়ণ ঘোষ বলেন, ২৬০টি পরিবারের হাতে আমরা ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। সেই সঙ্গে রিলিফ কিটও দেওয়া হচ্ছে। জনজীবন স্বাভাবিক হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮৫ জন ঘরছাড়া নিজের বাড়িতে ফিরে এসেছে। নিত্য প্রয়োজনীয় যে সমস্ত সামগ্রী লাগে তা আমরা মানুষের হাতে তুলে দিচ্ছি। যে সমস্ত পাড়ায় ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়ে গিয়েছে, সেখান থেকে অনেক নতুন পরিবার আবার আমাদের দেখে ত্রাণ চাইছে। অনেকেই বাড়িতে ফিরে এসছে বলেই পুনরায় তাদের ত্রাণের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
এদিন দক্ষিণবঙ্গের এডিজি সুপ্রতিম সরকার সামশেরগঞ্জের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত ৮৫ জন বাড়ি ফিরেছেন। যাঁরা চলে গিয়েছিলেন তাঁদের সঙ্গে এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাঁদের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, আপনারা নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসুন। পুলিস এসকর্ট দিয়ে তাঁদের নিয়ে আসা হবে। সুস্থভাবে নিরাপদে আগের মতো স্বাভাবিকভাবে তাঁরা যাতে জীবন যাপন করতে পারেন, সেজন্য সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্য পুলিসের ক্যাম্প যেমন এলাকায় রয়েছে, তেমনই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্যাম্পও রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এবং সংলগ্ন এলাকায় ঘরছাড়া বাকিরা ঘরে ফিরে আসবেন বলে আমরা আশাবাদী। ফিরছেন ঘরছাড়া মানুষজন। -নিজস্ব চিত্র