Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট! শহরে বাড়ছে চিকিৎসা বিভ্রাট, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেস্টের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসকরা চিকিৎসা করেন। কিন্তু সেই রিপোর্টই যদি ভুয়ো হয়, তার পরিণতি হয় ভয়ঙ্কর।

পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট! শহরে বাড়ছে চিকিৎসা বিভ্রাট, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৫ ১৮:১১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেস্টের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসকরা চিকিৎসা করেন। কিন্তু সেই রিপোর্টই যদি ভুয়ো হয়, তার পরিণতি হয় ভয়ঙ্কর। বর্ধমানের বেশ কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টার ল্যাবে পরীক্ষা না করেই নিজের ইচ্ছে মতো রিপোর্ট ছাপিয়ে নিচ্ছে। কারবারিদের কাছে তা ‘বেসিন টেস্ট’ নামে পরিচিত। এমনই অভিযোগ পেয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলেন পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ। তিনি বলেন, এটা বড় অপরাধ। এমনটা প্রমাণিত হলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। বিষয়টির উপর নজর রাখছি।

Advertisement

এখন চিকিৎসকের কাছে গেলেই সুগার, থাইরয়েড সহ বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করার পরমার্শ দেওয়া হয়। অনেক রোগীকেই চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার পরীক্ষা করতে হয়। কিন্তু বেশি মুনাফার লোভে পরীক্ষা না করেই এক শ্রেণির ল্যাবের মালিকরা কম্পিউটারে রিপোর্ট ছাপিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ। সেই কারণে বারবার রোগীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সারিয়া বিবি নামে এক প্রৌঢ়া কয়েক দিন আগে খোসবাগানের আরবি ঘোষ রোডের একটি ল্যাবে ‘ফ্লুইড’ পরীক্ষা করান। সেই রিপোর্টে বলা হয়, রোগীর শরীরে ম্যালিগন্যান্ট সেল রয়েছে। রিপোর্টের নীচে আবির গুহ নামে এক চিকিৎসকের সই রয়েছে। ক্যানসার শুনে ওই প্রৌঢ়ার পরিবারের মাথায় হাত পড়ে যায়। তড়িঘড়ি তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। ওষুধও দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের সন্দেহ হওয়ায় ফের তাঁকে অন্য ল্যাবে পরীক্ষা করতে বলা হয়। অন্য ল্যাবের পরীক্ষায় দেখা যায়, তাঁর শরীরে ক্যানসার বাসা বাঁধেনি। 
আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য অন্য একটি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। সেখানেও রিপোর্টে জানানো হয়ল তিনি ক্যানসার আক্রান্ত নন। ওই চিকিৎসক অবশ্য বলেন, সেই সময় যা পেয়েছি তাই রিপোর্ট দিয়েছি। আমাদের রিপোর্ট ভুল নয়। যদিও চিকিৎসকরাই বলছেন, সুগারের রিপোর্ট হেরফের হতে পারে। কিন্তু ক্যানসারের ক্ষেত্রে তা হবে না। কারও শরীরে ক্যানসার সেল থাকলে রাতারাতি তা উধাও হয়ে যেতে পারে না। 
রোগীদের অভিযোগ, ভালোভাবে পরীক্ষা না করার জন্য বারবারই এধরনের ভুল রিপোর্ট দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যদপ্তর কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্যই এক শ্রেণির চিকিৎসক এবং ল্যাব মালিক বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের মেন্টর মহম্মদ ইসমাইল বলেন, ওই পরিবারটি আমার কাছেও লিখিত অভিযোগ করেছে। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। ওই চিকিৎসক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে যাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয় তারজন্য স্বাস্থ্যদপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি। 
বর্ধমানের খোসবাগানে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীরা চিকিৎসার জন্য আসেন। সেখানেই ঘুঘুরবাসা তৈরি হয়ে গিয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, আচমকা বিভিন্ন ল্যাবে পরিদর্শন করা হবে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের আলাদা করে চিহ্নিত করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ