Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রণডিহায় বারবার ঘটছে দামোদরে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা, পুলিসি নজরদারির দাবি

রণডিহায় দামোদরে লকগেট দেখতে দিনভর ভিড় জমান বহু মানুষ। মাছ ধরতেও আসেন অনেকেই।

রণডিহায় বারবার ঘটছে দামোদরে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা, পুলিসি নজরদারির দাবি
  • ১৬ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: রণডিহায় দামোদরে লকগেট দেখতে দিনভর ভিড় জমান বহু মানুষ। মাছ ধরতেও আসেন অনেকেই। কিন্তু তাঁরা মানছেন না নিরাপত্তা বিধি। ঘুরতে গিয়ে, স্নান করতে গিয়ে বা মাছ ধরতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। জলে ডুবে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের দাবি, দামোদরে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। তবুও মানুষ সচেতন হচ্ছেন না। তাই অবিলম্বে রণডিহায় পুলিস-প্রশাসনের কড়া নজরদারি প্রয়োজন। উল্লেখ্য, গত শনিবার বাদল বাগদি নামে এক ব্যক্তি দামোদরে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যান। উদ্ধারের চেষ্টা চললেও মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি। স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর এই ধরনের ঘটনা ঘটে। চলতি বছরের জুন মাসে কাঁকসার দু’নম্বর কলোনি এলাকা থেকে ৮ তরুণ এসেছিলেন রণডিহা এলাকায়। সেখানে স্নান করতে নেমে তলিয়ে মৃত্যু হয় তিনজনের। 

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর আগে ২০২০ সালে ৩১মে লকগেটের নীচে নেমে মোবাইলে ছবি তুলতে গিয়ে মৃত্যু হয় দুর্গাপুরের গোপালমাঠের এক যুবকের। তার পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের জুলাই মাসে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে জন্মদিনে দামোদরে তলিয়ে মৃত্যু হয় আরও এক যুবকের। গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে মকর সংক্রান্তির দিন বিকেলে দামোদরে স্নান করতে নেমে জলে তলিয়ে মৃত্যু হয় এক তরুণের। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার সোনামুখীর ফকিরডাঙা, রাধামোহনপুর, বনগ্রাম, বোঁদলহাটি-সহ নানা গ্রাম থেকে দামোদর পেরিয়ে সহজে রণডিহায় আসা যায়। এখানে একটি ফেরিঘাটও রয়েছে। প্রতিদিন বাঁকুড়া থেকে বহু মানুষ আনাজ, দুধ বিক্রি করতে এদিকে আসেন। নিত্যযাত্রী ছাড়াও বহু মানুষ এই ফেরিঘাট ব্যবহার করেন। তাছাড়া অনেক পর্যটকও আসেন। অনেকেই লকগেটের নীচে দাঁড়িয়ে মোবাইলে সেলফি তোলেন। জলে নেমে পড়েন স্নান করার জন্য। কেউ কেউ আবার মদ্যপান করার জায়গা হিসেবে এটিকে বেছে নেন। 
স্থানীয় মৎস্যজীবী সনাতন সাহা বলেন, আমরা বারবার জলে নামতে নিষেধ করি। কিন্তু আমাদের কথা কেউ শোনে না। দুর্ঘটনা রুখতে সেচদপ্তর লকগেটে নামার রাস্তা তারকাটা দিয়ে ঘিরে দিয়েছে। সেখানে জলে নামা, স্নান করা ও সেলফি তোলার নিষেধাজ্ঞা বোর্ডও দেওয়া আছে। কিন্তু সেই নিষেধকে তোয়াক্কা না করে অনেকেই লকগেটের নীচে নেমে পড়ছেন। স্থানীয়দের দাবি পুলিসের তরফে কড়া নজরদারি দরকার। বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, রাস্তায় গাড়ি থেকে টাকা তোলার দিকেই পুলিসের নজর। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গায় বহু মানুষ ঘুরতে আসেন। সেখানে নজরদারির ব্যাপক অভাব রয়েছে। কড়া নজরদারির দাবি জানাচ্ছি। চাকতেঁতুল পঞ্চায়েতের প্রধান অনুপকুমার মেটে বলেন, ওখানে পুলিসের নজরদারি রয়েছে। সিভিক ভলেন্টিয়ারও থাকে। তাঁদের নজর এড়িয়ে অনেকে জলে নেমে পড়ছেন। এসিপি(কাঁকসা) সুমনকুমার জয়সওয়াল বলেন, নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছি। তবে এবিষয়ে মানুষকে সচেতন হতে হবে। 
 সতর্ক করে নোটিস। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ