নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভাতারে অনুষ্ঠান ভবন তখন সরগরম। আত্মীয়স্বজনরা চলে এসেছেন। কেউ কেউ খেতে বসেছেন। পাত্র-পাত্রী পাশাপাশি বসে রয়েছেন। কিছুক্ষণ পরই তাঁরা একসঙ্গে পথ চলার শপথ নেবেন। বন্ধুরা এসে তাঁদের সঙ্গে মজা করে চলে যাচ্ছেন। আর কয়েক মিনিটের অপেক্ষা। তারপরই বধূকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফিরবেন বর। রুমের ভিতরে বেজে চলছে ‘পারবে না কেউ তোমার আমার মাঝে দেওয়াল তুলে দিতে’। গানের তালে কখনও কখনও পা দোলাচ্ছেন পাত্র। পাত্রী লাজুক দৃষ্টিতে তাকাচ্ছেন। গানের কথাগুলি তাঁর মনেও যেন দাগ কেটে যাচ্ছিল। চোখেমুখে আনন্দ ফুটে উঠেছে। কিন্তু গান শেষ হওয়ার আগেই বিয়ের আসরে নাবালক পুত্রকে নিয়ে হাজির হলেন এক মহিলা। চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘আমাকে লুকিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করা হচ্ছে? সাত বছরের ছেলে থাকতে তোমার লজ্জা করে না?’ তিনি আসতেই সব যেন উলটপালট হয়ে গেল। এতক্ষণ যাঁরা ভাবছিলেন, কেউ তাঁদের সম্পর্কের মাঝে দেওয়াল তুলতে পারবেন না, সেই দু’জনের চোখেমুখেও উদ্বেগ। শুরু হয়ে যায় দু’পক্ষের মধ্যে বচসা। ভাতার থানার পুলিশ বাইশবিঘের কাছে ওই অনুষ্ঠান ভবনে এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। পাত্র বিয়ের আসর থেকে চম্পট দেন।
স্থানীয়রা বলেন, মঙ্গলকোটের ওই যুবকের কয়েক বছর আগে বিয়ে হয়। তাঁদের একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। কিন্তু তাঁদের মধ্যে ঠিকমতো বনিবনা হচ্ছিল না। সেই কারণে ওই যুবক দ্বিতীয়বার বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। ভাতার থানা এলাকারই এক যুবতীর সঙ্গে তিনি বিয়ের জন্য পাকা কথা বলেন। দুই বাড়ির লোকজনের মধ্যে আলোচনা করেই রবিবার বিয়ের আসর বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেইমতো দুই বাড়ির লোকজন সেখানে হাজির হন। আত্মীয়রাও এসেছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত পর্বে এমনটা হবে, সেটা কেউই ভাবতে পারেননি। এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ওই যুবকের প্রথম পক্ষের স্ত্রী বাপেরবাড়ি থেকে লোকজন নিয়ে আসেন। তিনি দাবি করেন, তাঁকে ডিভোর্স দেওয়া হয়নি। বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়িতে অত্যাচার চলছিল। সেই কারণেই তিনি সেখান থেকে বাপেরবাড়ি চলে আসেন। পরে সব ঠিক হয়ে যাবে এমনটাই তিনি ভেবেছিলেন। কিন্তু স্বামী যে দ্বিতীয় বিয়ে করবে, এমনটা ভাবেননি। পাত্রপক্ষের অবশ্য দাবি, প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর অনেকদিন ধরেই সম্পর্ক নেই। তাঁরা দু’জন আলাদা থাকেন। স্ত্রী শ্বশুরবাড়িতে যেতে চান না। সেই কারণেই ফের বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।সিদ্ধান্ত মতো সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। প্রথম পক্ষের স্ত্রী যাতে কিছু জানতে না পারেন, সেই কারণে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে বিয়ের আসর বসানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে প্রথম পক্ষের স্ত্রী পৌঁছে গিয়ে নতুন সম্পর্কের মাঝে দেওয়াল তুলে দেবেন, এমনটা হয়তো পাত্র আন্দাজ করতে পারেননি। বিয়ের আসর।-নিজস্ব চিত্র