নিজস্ব প্রতিনিধি, গড়বেতা: অতিবৃষ্টিতে গড়বেতা-১ ও ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় মানুষরা আতঙ্কিত। অভিজ্ঞরা বলছেন, ১৯৭৮ সালের পর এরকম পরিস্থিতি দেখা যায়নি। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিস ও প্রশাসন। দুর্গত মানুষদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে খাদ্য সামগ্রী ও ত্রিপল। পাশাপাশি স্বাস্থ্যশিবির তৈরি করে মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুক্রবার গড়বেতা-১ ও ২ ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় যান মন্ত্রী মানস ভূঁইয়া, শ্রীকান্ত মাহাত, রাজ্যের চার সচিব, জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, জেলার পুলিস সুপার ধৃতিমান সরকার, জেলার সিএমওএইচ সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা। তাঁরা মানুষের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের সুবিধে অুসবিধের বিষয়ে জানতে চান।
মানস ভূঁইয়া বলেন, টানা বৃষ্টির ফলে মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। সেই কথা শোনা মাত্রই মুখ্যমন্ত্রী আমাদের এখানে পাঠিয়েছেন। মানুষের সমস্যার কথা শুনছি। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কেউ আতঙ্কিত হবেন না। পুলিস ও প্রশাসন সর্বদা আপনাদের পাশে থাকবে।
বিধায়ক উত্তরা সিংহ হাজরা ও সুজয় হাজরা বলেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ১২টার পর গড়বেতা-১ ব্লকের ব্রাহ্মণ গ্রামে মন্ত্রী, জন প্রতিনিধি ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে পৌঁছয় গাড়ির কনভয়। তাঁদের দেখে স্বস্তি পান গ্রামবাসীরা। জানা গিয়েছে, দু’ দিনের বৃষ্টির জেরে ওই গ্রামে হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করে। প্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত গ্রামে রিলিফ ক্যাম্প তৈরি হয়। সেই ক্যাম্প থেকে খাবার, প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিলি করা হচ্ছে। এদিন ওই গ্রামের মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন মানস ভুঁইয়া। ত্রাণবিলির ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন আধিকারিকরা। মানসবাবু বলেন, ১৯৭৮ সালের পর এমন অবস্থা এই প্রথম হল। প্রকৃতির উপর কারও হাত নেই। জানা গিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় গড়বেতা-১ ও ২ ব্লকের প্রচুর রাস্তা, সেতুর ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসন ড্রোনের সাহায্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখে। এদিন জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ বলেন, মানুষের সমস্যার কথা শুনছি। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা হবে। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এদিন গড়বেতা-১ ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সমস্যার কথা শুনে গড়বেতা-২ ব্লকের আগরবাঁধ স্কুল এলাকায় যান জন প্রতিনিধি ও আধিকারিকরা। সেখানেও মানুষকে ত্রিপল, খাদ্য সামগ্রী বিলি করা হয়। নিজে হাতে সাধারণ মানুষকে খাবার দেন মানস ভূঁইয়া। স্বাস্থ্য পরিষেবা পেয়ে খুশি গ্রামের মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা রবি দোলই বলেন, জলের স্রোতে সব চলে গিয়েছে। প্রশাসন খাবার দিচ্ছে বলে, খেয়ে বেঁচে আছি। প্রশাসন পাশে না দাঁড়ালে খোলা আকাশের নীচে থাকতে হতো। এই এলাকার বহু বাড়ি ভেঙে গিয়েছে। নদীর এই রূপ কোনওদিন দেখিনি। গড়বেতা-১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি সেবাব্রত ঘোষ বলেন, মানুষের পাশে সর্বদা আছি। তৃণমূলের কর্মীরা প্রচুর পরিশ্রম করছেন। মানুষের বিপদ শুনলেই ছুটে যাচ্ছেন। বেশকিছু এলাকায় পরিস্থিতি খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র