নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: রাত নামলেই হাতির আতঙ্কে জবুথবু হয়ে যাচ্ছেন ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া দুর্গতরা। ময়নাগুড়ির আমগুড়ি অঞ্চলের বেদগারা খাটোরবাড়ি, তারাবাড়ি ও দাসপাড়া এলাকার বহু বাসিন্দা এখনও বাঁধের উপর পলিথিনের নীচে রাত কাটাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, রাত নামলেই হাতির দল হানা দিচ্ছে। মঙ্গলবার রাতেও রামসাইয়ের জঙ্গল থেকে হাতির পাল জলঢাকা নদী পেরিয়ে চলে আসে। ধান খেতের ভিতর দিয়ে হাতির দলটি ত্রাণ শিবিরের কাছাকাছি চলে এসেছিল। এনিয়ে প্রবল আতঙ্ক ছড়ায়।
বাঁধের উপর ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া বাসিন্দারা হাতির আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে দেন। হাতি তাড়াতে কেউ কেউ বাজি, পটকা ফাটান। বেশ কিছুক্ষণ পর হাতির দলটি ফিরে যায় বলে দাবি বানভাসি দুর্গতদের। তাঁদের দাবি, প্লাবনে জঙ্গলে ঘাসজমি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ফলে হাতির খাবারে টান পড়েছে। সেকারণে মাঠের ধান, কলাগাছ ও ত্রাণশিবিরে চাল-ডালের লোভে হাতির দল হানা দিচ্ছে। গত এক সপ্তাহে তিনদিন হাতির দল হানা দিল। আচমকা হাতির পাল চলে এলে কী হবে, সেটা ভেবেই আতঙ্কগ্রস্ত প্রত্যেকেই। দুর্গতদের দাবি, যতদিন বাঁধের উপর ত্রাণশিবিরে মানুষজন থাকছেন, ততদিন বনদপ্তরের পক্ষ থেকে রাতে পাহারা বসানো হোক।
ময়নাগুড়ির বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডু বলেন, বনদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখেছে ব্লক প্রশাসন। হাতি তাড়াতে টিমও তৈরি করা হয়েছে। হাতি তাড়ানোর জন্য রামসাইয়ে বনদপ্তরের টিম রয়েছে বলে জানিয়েছেন গোরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের সহকারী বনাধিকারিক রাজীব দে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে ওই টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে। যদিও তাঁর দাবি, দুর্গতরা দাবি করলেও ময়নাগুড়ির বেদগারা খাটোরবাড়ি, তারাবাড়ি এলাকায় হাতির হানার খবর বনদপ্তরের কাছে নেই। তবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
বুধবার বিকেলের আলো নিভতেই বেদগারা খাটোরবাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রেললাইন পেরিয়ে ত্রাণ শিবিরে ঢুঁ দিতেই দেখা যায়, ৬৫ বছরের বৃদ্ধ দীননাথ রায় পরিবারের সবাইকে আগলে পলিথিনের ছাউনির নীচে জবুথবু মেরে রয়েছেন। জিজ্ঞেস করতেই বললেন, এই যে সন্ধ্যা হচ্ছে আর আতঙ্ক বাড়ছে। মঙ্গলবার রাতেও ঠাকুর (হাতি) বেরিয়েছিল। ত্রাণ শিবিরের অনেকটা কাছে চলে এসেছিল। ধানখেতের মধ্যে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়েছিল। তারপর লোকজন সবাই মিলে বাজি, পটকা ফাটাতে শুরু করে। পটকার আওয়াজে বেশ কিছুক্ষণ পর দলটি ধীরে ধীরে জলঢাকা নদী পেরিয়ে জঙ্গলের দিকে চলে যায়।
ত্রাণ শিবিরে দেখা মিলল সুমিত্রা রায়ের সঙ্গে। হাতির আতঙ্কে তিনিও কাঁটা। বললেন, বাড়িঘর তো ভেসে গিয়েছে। মাথাগোঁজার ঠাঁই নেই। বাধ্য হয়ে ছেলেমেয়েদের নিয়ে পলিথিনের নীচে রাত কাটাতে হচ্ছে। কিন্তু হাতির আতঙ্ক নতুন করে ভয় ধরাচ্ছে মনে। মঙ্গলবার হাতির দল হানা দিয়েছে বলে খবর চাউর হওয়ায় সারারাত ঠিক করে ঘুমোতে পারিনি। আমরা চাই, বনদপ্তর এখানে রাত পাহারার ব্যবস্থা করুক।