Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নার্সের মৃত্যুর খবর আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন আত্মীয়-পরিজনরা

মাকে দেখেই নার্স হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন মঙ্গলকোটের তরুণী। এক মাসের লড়াই শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে নিপা আক্রান্ত ওই নার্সের মৃত্যু হয়েছে।

নার্সের মৃত্যুর খবর আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন আত্মীয়-পরিজনরা
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: মাকে দেখেই নার্স হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন মঙ্গলকোটের তরুণী। এক মাসের লড়াই শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে নিপা আক্রান্ত ওই নার্সের মৃত্যু হয়েছে। সেই খবর আসতেই শোকে ভেঙে পড়ে গোটা গ্রাম। কান্নায় ভেঙে পড়েন নার্সের আত্মীয়রা। মৃত নার্সের বাবা বলেন, গত কয়েকদিন মেয়েটাকে নাম ধরে ডাকলে সাড়া দিচ্ছিল। আমার সব শেষ হয়ে গেল। মেয়েটা আর নেই। আমরা ওকে বাঁচাতে পারলাম না।এদিন ওই নার্সের মৃত্যুর খবর আসতেই মঙ্গলকোটের গ্রাম কার্যত শোকে ভেঙে পড়ে। ওই নার্সের বাড়ি তালাবন্ধ ছিল। পরিবারের সকলে কলকাতায় রয়েছেন। তাঁর দিদিমা অনিতা রায়চৌধুরী বলেন, বাড়ি এলেই নাতনি আমাকে আদর করত।

Advertisement

মানুষের সেবা করতে গিয়েছিল। কিন্তু এভাবে এত অল্প বয়সে ওর প্রাণটাই চলে যাবে ভাবতে পারিনি। দাদু জীবনকৃষ্ণ রায়চৌধুরী বলেন, এই লড়াইয়ে ও আর পারল না। মোবাইলে খবর পেয়ে আমার হাত-পা কাঁপছে।  জানা গিয়েছে, ওই নার্স কাটোয়া ডিডিসি গার্লস স্কুলে পড়াশোনা করতেন। অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। তাঁর মা মঙ্গলকোটের স্বাস্থ্যকর্মী ছিলেন। এদিন মৃতের ভাই বলেন, দিদিকে ভেন্টিলেশন থেকে বের করেছিল। আমরা ভেবেছিলাম আবার একসঙ্গে বাড়ি ফিরব। সেটা আর হল না। প্রসঙ্গত, গত ৩০ডিসেম্বর জ্বর হয় ওই নার্সের। তিনি বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। ৩১ডিসেম্বর জ্বর গায়েই তিনি কাজ করেন সেখানে। এরপর ২ জানুয়ারি তাঁকে হাওড়া স্টেশন থেকে মঙ্গলকোটের বাড়িতে নিয়ে আসেন বাবা। ওইদিনই তাঁকে কাটোয়া শহরের সার্কাস ময়দানের এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে অসুস্থ অবস্থায় মঙ্গলকোটের বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ভোররাতে তিনি সংজ্ঞা হারান। ৩জানুয়ারি কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে তাঁকে বর্ধমান মেডিকেলে পাঠানো হয়েছিল। বর্ধমান থেকে সেদিনই বারাসতের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরেরদিন ৪জানুয়ারী ওই নার্সের শরীরে নিপা ভাইরাসের হদিশ পাওয়া যায়। গ্রামের বাসিন্দা চিরকুমার রায় বলেন, এত অল্প বয়সে নার্স হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। এভাবে মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ