Bartaman Logo
৫ জুলাই, ২০২৬

দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সচিবের নিশানায় রেখা গুপ্তার সরকার

দু’জায়গাতেই বিজেপির সরকার। দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার সরকার। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার।

দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সচিবের নিশানায় রেখা গুপ্তার সরকার
  • ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: দু’জায়গাতেই বিজেপির সরকার। দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার সরকার। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার। তা সত্ত্বেও দূষণ নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে দিল্লি সরকারের ‘মিস্ট স্প্রে’-এর বিষয়টিকে ‘স্রেফ চমক’ বলে ব্যাখ্যা করলেন পৃথ্বী-বিজ্ঞান (আর্থ অ্যান্ড সায়েন্স) মন্ত্রকের সচিব ডঃ এম রবিচন্দ্রন। মন্ত্রকের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের পাশে বসে জানালেন, এভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। তার জন্য সঠিক নীতির প্রয়োজন হয়। দিল্লিতে যা করা হয়েছে, সেটি আদতে বিশেষ কাজের নয়। মন্ত্রকের সচিবের এই মন্তব্যে অস্বস্তিতে পড়ে যান মন্ত্রী। প্রসঙ্গ ঘোরাতে তিনি বলেন, ‘দূষণ নিয়ন্ত্রণ আমাদের মন্ত্রকের বিষয় নয়। পরিবেশ মন্ত্রকের ব্যাপার। আমাদের বিষয় বিজ্ঞান।’ মন্ত্রী প্রসঙ্গ ঘোরানোর চেষ্টা করলেও পৃথ্বী-বিজ্ঞান মন্ত্রকের সচিবের মন্তব্যে দিল্লির বিজেপি সরকারের চমকের চেষ্টা কার্যত ফাঁস হয়ে গিয়েছে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। 

Advertisement


গত কয়েক বছর ধরে প্রতি শীতেই দূষণের জেরে নাজেহাল হতে হয় রাজধানীর বাসিন্দারা। আগে শীলা দীক্ষিতের কংগ্রেস সরকার, পরে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির সরকার, এখন রেখা গুপ্তার বিজেপি সরকার—ছবিটা একই রয়ে গিয়েছে। তার ফলে যখন যারা বিরোধী আসনে বসে, তখনই তারা দূষণ ইস্যুতে সরকারকে দুষেছে। কিন্তু সমস্যা মেটেনি। গত নির্বাচনে জিতে দিল্লিতে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। দূষণ নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি দিল্লির কয়েকটি জায়গায় ‘পোল মাউন্টেড মিস্ট স্প্রে’ লাগানো হয়েছে। আলোর খুঁটিতে ৩০টি করে অতি সূক্ষ্ম নল দিয়ে বাতাসে ছড়ানো হচ্ছে জলের ছিটে। এরকম এক-একটি খুঁটির জন্য প্রয়োজন ৮৪ লিটার জল। আইটিও, লক্ষ্মীনগর সহ দিল্লির কয়েকটি জায়গায় এ ধরনের স্প্রের ব্যবস্থা করতে ৩ কোটি ২১ লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে বলে খবর।
কিন্তু তাতে কি আদতে কাজ হচ্ছে? এনিয়ে জানতে চাওয়া হলে শুক্রবার এম রবিচন্দ্রন বলেন, এভাবে দূষণ কমানো যায় না। আসলে দিল্লিতে লাগাতার রাস্তার কাজ, বহুতল বাড়ি তৈরি, গাড়ির ধোঁয়া ইত্যাদি কারণে দূষণ বাড়ছে। তার জন্য এভাবে জল ছিটিয়ে কিছু লাভ হবে না। এর জন্য ধুলো ওড়া বন্ধ হতে পারে। কিন্তু প্রাকৃতিক দূষণ কমানো কঠিন। তার জন্য উপযুক্ত নীতির প্রয়োজন। আসলে যে পরিমাণ গাছের দরকার, তার অভাব রয়েছে। এই ধরনের পদক্ষেপে সাময়িকভাবে মনে হতে পারে যে দূষণ কমছে। কিন্তু আদতে তা নয়।


অন্যদিকে, এখন থেকে আর দিনের আবহাওয়া নয়, ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। আপাতত আগাম তিন ঘণ্টার হিসাব কষা শুরু হয়েছে। পরে তা প্রতি ঘণ্টার পূর্বাভাস ধরা পড়বে। পৃথ্বী-বিজ্ঞান মন্ত্রক এর জন্য উন্নত প্রযুক্তি, রেডার, সেন্সর, মনিটরিং ব্যবস্থার উদ্যোগ নিচ্ছে বলেই জানিয়েছেন রবিচন্দ্রন। শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রকের এই উ঩দ্যোগের প্রশংসা করেন মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। ‘মৌসম’ নামে মোবাইল অ্যাপও তৈরি করেছে কেন্দ্র। সেখানে তিন ঘণ্টার আগাম আবহাওয়ার পূর্বাভাস মিলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ