নয়াদিল্লি ও নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বড়োসড়ো পদক্ষেপ। পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যুক্ত ২৩ জনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা। ইউএপিএ আইনের ৩৫ নম্বর ধারায় ওই ২৩ জনকে জঙ্গি ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ২০১৯ সালে এই আইন সংশোধনের পর এখনও পর্যন্ত ৮০ জনকে ঘোষিত জঙ্গি তকমা দেওয়া হল। এই জঙ্গিদের ১৭ জনই পাকিস্তানি। ছ’জন ভারতীয়। তাদের প্রত্যেকেই পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সক্রিয়। ওই তালিকায় নাম রয়েছে লস্কর-ই-তোইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ মহম্মদ মুসাদ্দিকের। সে অযোধ্যায় হামলা চালানোর রেকি করেছিল বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মোদি সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুযায়ীই পদক্ষেপ নিচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
দীর্ঘদিন ধরেই লস্কর-ই-তৈবা এবং জয়েশ-ই-মহম্মদ সহ পাক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি ভারতের নানা জায়গায় নাশকতার ছক কষছে। আর হামলা চালানোর জন্য ঠিক কোন কোন জায়গা বেছে নেওয়া হতে পারে, তার রেকি চালানোর জন্য অপারেটিভদের নিয়োগ করে পাক জঙ্গি সংগঠন। মুসাদ্দিক সেই কাজই করল। ইন্টেলিজেন্স সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট মিশনের জন্য কমান্ডার নির্বাচন। নাশকতা করাতে যুবকদের খোঁজা। টাকার জোগান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সংযোগকারী ব্যক্তি ঠিক করা এবং জঙ্গি অনুপ্রবেশ ও তার সঙ্গে অস্ত্র পাচারের জন্য নেটওয়ার্ক তৈরি— সব কাজের ভার ছিল মুসাদ্দিকের উপর।
জানা গিয়েছে, তালিকাভুক্ত ২৩ জনের মধ্যে ছ’জন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দা। আগে তারা ভারতীয় নাগরিক ছিল। পরে পাকিস্তানে ঘাঁটি বাঁধে। তবে মহম্মদ মুসাদ্দিককে নিয়েই সবচেয়ে চর্চা ইন্টেলিজেন্সে। নানা সময় ভিন্ন পরিচয়ে সে ভারতের বহু জায়গায় রেকির কাজ করেছে। পাকিস্তানের এই জয়েশ অপারেটিভ লাসিয়াকোটে লঞ্চিং কমান্ডার হিসাবে কাজ করে। টানেলের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে ভারতে অস্ত্র পাচার ও অনুপ্রবেশ করানোর বিষয় সে মূলত দেখত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, অযোধ্যায় রাম জন্মভূমি মন্দির কমপ্লেক্সের পাশাপাশি নাগপুরে আরএসএসের সদরদপ্তর ও পানিপতে ইন্ডিয়ান অয়েলের পরিশোধনাগারেও রেকি চালিয়েছে মুসাদ্দিক।
অন্যদিকে ওই ২৩ জনের মধ্যে হারুন রশিদ গনাই, বিলাল আহমেদ মীর, আবিদ কায়ুম লোন, নাজির আহমেদ গুজ্জর, ওয়াইস ফারুক এবং মহম্মদ শাহিদ ফয়জল আগে কাশ্মীরের বাসিন্দা ছিল বলে জানা গিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও ইউএপিএ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে।