ইন্দোর: ৬ বছর ধরে চলছে সরকারি হাসপাতাল। কর্মরত ৮৭ জন চিকিৎসক, নার্স, মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান, ফার্মাসিস্ট সহ নানা বিভাগের কর্মী। তবে সবটাই শুধু খাতায় কলমে। বাস্তবে হাসপাতালের ভবন বলতে কিছু নেই। একটা ইঁট গাঁথা তো দূরের কথা। জমিও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইন্দোরের খারজানার এই ‘ভুতুড়ে’ সিভিল হাসপাতাল নিয়ে সরব বিরোধী দল কংগ্রেস। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি জানিয়েছে হাতশিবির। বিষয়টি বিধানসভায় তোলা হবে বলে জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী সজ্জন সিং ভার্মা। দলের নেতা পবন খেরার তীর্যক কটাক্ষ, এতে বিজেপি সরকারের কোনও দোষই নেই। জাদুকাঠির ছোঁয়ায় আস্ত হাসপাতাল হাজির হবে, এই আশায় তারা ছ’বছর ধরে আলাদিনের প্রদীপে ঘষা দিচ্ছে। কিন্তু তা হয়নি। সেজন্য আলাদিন ও তার প্রদীপের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের জন্য ইউএপিএ-তে মামলা করা হোক।
জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে খারজানায় ওই হাসপাতালটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারপর রাজ্য সরকার ওই হাসপাতালের জন্য চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান সহ মোট ৮৭টি পদ ঘোষণা করে। হয়েছে একের পর এক নিয়োগও। এমনকি গত ১৫ জুনও একজন মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান ওই ‘হাসপাতালে’ বদলি হয়ে আসেন। তবে সবটাই খাতায় কলমে। আধিকারিকদের দাবি, খারজানার ওই হাসপাতালে নিযুক্ত চিকিৎসক-নার্সরা পিসি সেঠি হাসপাতাল, হেমকুণ্ড হাসপাতাল, সঞ্জীবনি ক্লিনিক সহ ইন্দোরের নানা হাসপাতালে কাজ করছেন।
এই প্রসঙ্গে উপ মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেন্দ্র শুক্লা বলেছেন, হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা বারবার পরিবর্তনহয়েছে। প্রথমে ঠিক হয়েছিল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়া হবে। পরে দু’বার সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ১০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে জমি না মেলায় হাসপাতালের ভবন নির্মাণ শুরু করা যায়নি। তিনি বলেন, ‘জমি খোঁজার কাজ পুরোদমে চলছে। সেখানে কর্মরত প্যারামেডিক্যাল কর্মীদের সিএমএইচও স্থানীয় সঞ্জীবনি ক্লিনিকগুলিতে নিয়োগ করতে পারেন।’ প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তুলসি সিলাভাটের দাবি, হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ এলাকা জবরদখল হয়ে গিয়েছে।



