নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: পুলিসের খাতায় পলাতক। অথচ বহাল তবিয়তে সরকারি অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক মঞ্চে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তৃণমূলের ব্লকের ওই নেতা। শুক্রবার রাতে বেলডাঙার এসডিপিও’র নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ওই মামলায় অপর দুই অভিযুক্তকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু ওই ‘পলাতক’ তৃণমূল নেতার নাগাল পাচ্ছে না পুলিস। অথচ একবছর পাঁচমাস আগে প্রথমে হাইকোর্ট, পরে সুপ্রিমকোর্টে ওই নেতার জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে।
২০২৩ সালের ৮জুলাই রমপাড়া-২ পঞ্চায়েতের লোকনাথপুর দক্ষিণপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মহসিন মোল্লা ও মন্টু মোল্লা নামে দুই ব্যক্তিকে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় প্রথমে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলে। হাসপাতাল থেকে ফিরেও তাঁরা দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ছিলেন। অভিযোগ, বারবার থানায় গেলেও পুলিস তাঁদের অভিযোগ নেয়নি। পরে মহসিনের ছেলে আদালতে আবেদন করলে পুলিস মামলা রুজু করতে বাধ্য হয়। ১৭আগস্ট ১৩জনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তাদের মধ্যে হামিদুল শেখ ও শেরফুল শেখকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার ধৃতদের মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
বেলডাঙার এসডিপিও উত্তম গড়াই বলেন, ১৩জন আসামীর মধ্যে দু’জনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। শুক্রবার রাতে রেজিনগরের দক্ষিণপাড়া লোকনাথপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
এই মামলায় ১৩জন অভিযুক্তের মধ্যে একজন তৃণমূলের বেলডাঙা-২ পূর্ব ব্লকের প্রথম সারির নেতা। পুলিস নাকি তাঁকে খুঁজে পাচ্ছে না। অথচ সম্প্রতি ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচিতেও ওই নেতার দেখা মিলেছে। এই প্রশ্ন তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত দাস। তিনি বলেন, শাসকদলের জামা গায়ে পড়লে পুলিস দিনের আলোতেও অপরাধীদের খুঁজে পায় না। এটা তারই প্রমাণ। ওই ঘটনার মূল অভিযুক্ত সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে নানা কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে। তবু পুলিস তাকে খুঁজে পাচ্ছে না। ঠিক একইভাবে বহরমপুরে সত্যেন চৌধুরী খুনের ঘটনায় পুলিস আসল অভিযুক্তদের দেখতে পায়নি।
বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য লাল্টু দাস বলেন, যেখানে সুপ্রিমকোর্টে জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে, সেখানে কী করে দেড়বছর ধরে অভিযুক্ত নিজের এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে? শাসকদলের কোন নেতার ছত্রছায়ায় অভিযুক্তরা আছে, তা আগে খুঁজে বের করা দরকার।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, আইন আইনের পথে চলবে। কোনও নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ সঠিক প্রমাণিত হলে পুলিস ব্যবস্থা নেবে। দল কোনও অপরাধীকে সমর্থন করবে না। একই কথা জানান রেজিনগরের তৃণমূলের বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী।