নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগরে প্রতীত পাল (৪৪) নামে এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী খুন হয়েছেন। তাঁর বাড়ি রেজিনগরের উত্তর কলোনিতে। এই ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। প্রত্যেকেই স্থানীয়ভাবে বিজেপি কর্মী বলে পরিচিত। রেজিনগর থানার পুলিস মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। বিজেপির দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির যোগ নেই। তবে মৃতের পরিবারের অভিযোগ, পঞ্চায়েত নির্বাচনে একটি গণ্ডগোলের ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছিল। বারবার মামলা তোলার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। তা সত্ত্বেও মামলা না তোলায় বিজেপি কর্মীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। আশা করছি, দু’একদিনের মধ্যেই মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২১জুলাই সন্ধ্যায় প্রতীতবাবু পলাশী থেকে টোটোয় বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় স্থানীয় কিছু বিজেপি কর্মী ও তাদের পরিবারের লোকজন একটি নির্জন মাঠের ধারে তাঁকে ধরে ফেলে। তারপর তাঁকে ধারালো অস্ত্র ও শাবল দিয়ে কোপানো ও মারধর করা হয়। তাঁর মাথায় ও দেহের নানা জায়গায় আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। শুক্রবার রাতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এঘটনায় যে ছ’জনের নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, তারা প্রত্যেকে আন্দুলবেড়িয়ার উত্তর কলোনির বাসিন্দা।
মৃতের ভাই পরিতোষ পাল বলেন, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে আমাদের গ্রামে একটা গণ্ডগোলের জেরে মামলা হয়েছিল। যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, তারা বিজেপি করে। ওরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য লাগাতার হুমকি দিচ্ছিল। ২১জুলাই আমরা কেউ বাড়িতে ছিলাম না। দাদা সন্ধ্যার দিকে টোটোয় ফিরছিল। তখন প্রায় ২০জন মিলে দাদাকে বেধড়ক মারধর করে। দাদার হাতেপায়ে ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মেডিক্যাল থেকে খবর পাই, দাদা মারা গিয়েছে। দাদা ছ’জনকে চিনতে পেরেছিল। তারা প্রত্যেকে বিজেপি করে। ওদের নাম সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে।
তবে এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই বলে গেরুয়া শিবিরের দাবি। বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক লাল্টু দাস বলেন, পাড়ার গণ্ডগোলের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। ওই ব্যক্তির সঙ্গে এলাকার বেশ কয়েকজনের অনেকদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর মধ্যে রাজনীতি নেই। বিজেপি খুন ও সন্ত্রাসের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আশা করছি, পুলিসি তদন্তে সত্যিটা বেরিয়ে আসবে।
এবিষয়ে রেজিনগরের তৃণমূল বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরী বলেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। পুরনো বিবাদের জেরে এঘটনা ঘটেছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে। যে দুষ্কৃতীরা এই অপরাধ করেছে, তাদের অবিলম্বে শাস্তি দিতে হবে। প্রতীত বহুদিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে জড়িত। গত পঞ্চায়েত ভোটে ও নিজের এলাকায় ভালো কাজ করেছে। ওর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। রেজিনগরে মৃত তৃণমূলকর্মী প্রতীত পাল।