Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফাঁসিদেওয়ায় মানুষের পাশে সর্বক্ষণ ‘রিলস স্টার’ রোমা রেশমি

নিখোঁজ গবাদিপশুর খোঁজ থেকে নাগরিকত্বের নথি জোগাড়। সবেতেই গ্রামবাসীদের পাশে দাঁড়ান শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি তৃণমূল কংগ্রেসের রোমারেশমি এক্কা।

ফাঁসিদেওয়ায় মানুষের পাশে সর্বক্ষণ ‘রিলস স্টার’ রোমা রেশমি
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: নিখোঁজ গবাদিপশুর খোঁজ থেকে নাগরিকত্বের নথি জোগাড়। সবেতেই গ্রামবাসীদের পাশে দাঁড়ান শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি তৃণমূল কংগ্রেসের রোমারেশমি এক্কা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি ‘রিলস স্টার’ হলেও গ্রামে সকলের ঘরের মেয়ে। স্কুটারে করে গ্রামের পর গ্রাম চষে বেড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের জমিতে ফসলও ফলান। জমিতে ধান গাছ রোপণ থেকে কাটা সবই করেন। সবমিলিয়ে গ্রামে তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। 

Advertisement

শিলিগুড়ি মহকুমায় এসটি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্র ফাঁসিদেওয়া। এখানকার বিধাননগর পঞ্চায়েতের হারুডাঙায় মহকুমা পরিষদের সহকারী সভাধিপতির বাড়ি। তিনি সাদ্রির পাশাপাশি বাংলা সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন। মহকুমা পরিষদের ও গ্রামবাসীদের কাজকর্ম সামাল দেওয়ার পর সময় পেলেই নিজের গ্রাম, ধান খেত, চা বাগান নিয়ে ‘রিলস’ করেন। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনই সকাল থেকে রোমার বাড়িতে ভিড় করেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের মধ্যে কেউ হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজে দেওয়ার, কেউ খোঁয়াড়ে আটক গোরু ছাড়ানোর আর্জি নিয়ে আসেন। আবার কেউ কেউ নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র জোগাড়ের দাবি নিয়ে আসেন। 
সহকারী সভাধিপতি বলেন, শুধু গবাদিপশু খুঁজে দেওয়ার আবদার নয়, গ্রামীণ রাস্তা মেরামত করা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধার জন্যও গ্রামবাসীরা আসছেন। এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকে গ্রামবাসীরা নাগরিকত্ব প্রমাণের নথি জোগাড় করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। এজন্য বাগান কর্তৃপক্ষের সুপারিশপত্র, গ্রাম পঞ্চায়েতের রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট জোগাড় করে দিচ্ছি। 
ফাঁসিদেওয়া ও খড়িবাড়ি ব্লকে ২০টি চা বাগান রয়েছে। তাতে আদিবাসী শ্রমিকের সংখ্যা বেশি। সুযোগ পেলেও স্কুটারে করে বিধাননগর, ঘোষপুকুর, চটহাট, খড়িবাড়ি সহ বিভিন্ন এলাকায় চোষে বেড়ান। নিয়মিত মহকুমা পরিষদে যাওয়ার পাশাপাশি নিজের জমিতে ধান চাষ করেন রোমা। স্থানীয়রা বলেন, পড়াশোনা শিখেছেন। সিনেমা করেছেন। তা হলেও রোমার মধ্যে কোনও অহঙ্কার নেই। গ্রামবাসীদের বাড়িতে গিয়ে বারান্দায় কিংবা উঠোনে বসেপড়েন। ঘরের মেয়ের মতো করে মেলামেশা করেন। ওঁকে সহজেই কাছে মেলে। আমাদের সবকাজও করে দেন। অর্থাৎ ‘যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে’-এই প্রবাদ রোমার খেত্রে একশোভাগ খাটে। রোমা বলেন, সময় পেলেই নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করি। 
সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্র বিজেপির কব্জায়। এখানকার মাটি থেকে পদ্ম শিবিরকে উৎখাত করাই তৃণমূলের টার্গেট। সহকারী সভাধিপতি বলেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহু কিছু দিলেও এখন পর্যন্ত এখানে দলকে জেতাতে পারিনি। এবার বিজেপিকে বিসর্জন দিয়ে এই কেন্দ্র দিদিকে উপহার দেব। স্থানীয় বিধায়ক বিজেপির দুর্গা মুর্মু অবশ্য বলেন, তৃণমূলের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। এবারও কেন্দ্রটি বিজেপির দখলে থাকবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ