Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাত জায়গায় রেকর্ড বৃষ্টি, বিপর্যস্ত পাহাড়! তিস্তায় হলুদ সঙ্কেত, অধিকাংশ নদী ফুঁসছে, বন্যার শঙ্কা

এক রাতে রেকর্ড বৃষ্টি উত্তরবঙ্গের সাত জায়গায়। যার মধ্যে তিনটি স্থানে অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। যার পরিমাণ ১৯৬ থেকে ৩০০ মিলিমিটারের বেশি। এর জেরে সমতলের একাধিক জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নদীবাঁধ।

সাত জায়গায় রেকর্ড বৃষ্টি, বিপর্যস্ত পাহাড়! তিস্তায় হলুদ সঙ্কেত, অধিকাংশ নদী ফুঁসছে, বন্যার শঙ্কা
  • ২৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এক রাতে রেকর্ড বৃষ্টি উত্তরবঙ্গের সাত জায়গায়। যার মধ্যে তিনটি স্থানে অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে। যার পরিমাণ ১৯৬ থেকে ৩০০ মিলিমিটারের বেশি। এর জেরে সমতলের একাধিক জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নদীবাঁধ। দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়েও নেমেছে ধস। সিকিমগামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক সহ বেশকিছু রাস্তা ও বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

Advertisement

পাহাড়-সমতলে বৃষ্টির জেরে ফের তিস্তা, তোর্সা, মহানন্দা সহ অধিকাংশ নদী ফুঁসছে। জলপাইগুড়ি ও মেখলিগঞ্জে তিস্তার অসংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সঙ্কেত জারি করেছে সেচদপ্তর। নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা রীতিমতো আতঙ্কিত। বন্যার আশঙ্কায় তাঁদের রাতের ঘুম উবে গিয়েছে। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানান, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে। বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা ও ক্যুইক রেসপন্স টিম সতর্ক রয়েছে। যে জায়গাগুলিতে অতিভারী বৃষ্টি হয়েছে সেগুলির মধ্যে জলপাইগুড়ির গজলডোবা অন্যতম। রিজিওনাল ফ্লাড কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে বৃষ্টির পরিমাণ ৩০৭.৩৪ মিলিমিটার। আলিপুরদুয়ার ও সেভকে বৃষ্টির পরিমাণ যথাক্রমে ২২৭.৬০ এবং ১৯৬.২ মিমি। শিলিগুড়িতে ১৭৫, কোচবিহারে ১১৪.৪০, মাথাভাঙায় ১০০.৬০ ও তুফানগঞ্জে ৯২.৪০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। 
এরজেরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নদীবাঁধ। প্রশাসন সূত্রের খবর, জলপাইগুড়ির রংধামালিতে তিস্তার বাঁধের ১৫০ মিটার, মাটিগাড়ার বিনয়নগরে বালাসনের বাঁধ, ফাঁসিদেওয়ায় পূর্ব মাদাতিতে বুড়ি বালাসনের বাঁধ, আলিপুরদুয়ার শহরে টিপি বাঁধ, আলিপুরদুয়ার জেলার বিবেকানন্দ-২ পঞ্চায়েতের নোনাইয়ের বাঁধ, তুফানগঞ্জে সন্তোষপুরে গদাধর নদীর বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলার মাঝেরডাবরিতে চেকো নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। সেচ দপ্তরের উত্তর-পূর্ব বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলির উপর নজর রাখা হচ্ছে। 
বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দার্জিলিং, কালিম্পং। শ্বেতীঝোরা, সেলফিদারা, বিরিকদারা, লিকুভির, মেল্লি, ভালুখোলায় ধস নামায় বিপজ্জনক কালিম্পং ও সিকিমগামী জাতীয় সড়ক। ধসের জেরে দার্জিলিংয়ের সুখিয়াপোখরিতে ক্ষতিগ্রস্ত চারটি বাড়ি। কার্শিয়াংয়ের পাঙ্খাবাড়ি রোড ও কালীঝোরায় গ্রামীণ রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তিনধরিয়ায় ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ও টয় ট্রেনের লাইনের উপর বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়া দু’টি গাছ কেটেছে প্রশাসন। দার্জিলিংয়ের এসডিও রিচার্ড লেপচা বলেন, ধসে সুখিয়াপোখরির ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের ত্রিপল ও ত্রাণ বিলি করা হয়েছে। 
সেচদপ্তর সূত্রে খবর, দোমোহনি ও মেখলিগঞ্জে অসংরক্ষিত এলাকায় তিস্তার জল বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। সংশ্লিষ্ট দু’টি জায়গা এবং ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের কাছে জলঢাকা নদীর অসংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সঙ্কেত জারি হয়েছে।  লিখুভিরে ধস। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ