মুম্বই: বৃষ্টি, শুধু বৃষ্টি। রবিবার শুরু হয়েছিল। সোমবারও মুম্বইতে অব্যাহত তার প্রকোপ। এর জেরে ব্যাহত মুম্বইকরদের স্বাভাবিক জনজীবন। জলমগ্ন শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা। আটকে পড়েছে যানবাহন। বিমান ও ট্রেন পরিষেবাও বিপন্ন। নবনির্মিত ওরলি মেট্রো স্টেশনের ছাদ ভেঙে পড়ে। প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত জল উঠে আসে। আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে সোমবার জানানো হয়েছে, মুম্বইয়ে সাধারণত ১১ জুন বর্ষা শুরু হয়। এবার ১৬ দিন এগিয়ে ২৫ মে থেকে শুরু হয়েছে বর্ষা। সেই হিসেবে বর্ষার আগাম আগমনের দিক দিয়ে এবার ভেঙে গিয়েছে ৬৯ বছরের রেকর্ড। ১৯৫৬ সালে ২৯ মে বর্ষা নেমেছিল মুম্বইতে। স্বাধীন ভারতে সেবারই প্রথম বর্ষার দিনক্ষণ রেকর্ড করা হয়। এরপর ১৯৬২ এবং ১৯৭১ সালেও ২৯ মে বর্ষা নামে দেশের বাণিজ্যনগরীতে। এবার সেসব রেকর্ড অতীত। অন্যদিকে, শুধু মে মাসের বৃষ্টি ধরলে ১০৭ বছরের রেকর্ড ভেঙে গিয়েছে এবার।
বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে মুম্বই ও প্রতিবেশী থানে ও রায়গড় জেলার জন্য কমলা সতর্কতা জারি করেছিল ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)। পরে তা বদলে লাল করা হয়। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত লাল সতর্কতা জারি থাকছে রত্নগিরি জেলাতেও। সোমবার সকালের কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কুর্লা, সিওন, দাদর, মাহিম, বান্দ্রা ও প্যারলের মতো নিচু এলাকা জলের নীচে চলে যায়। আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী চব্বিশ ঘণ্টা ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। সঙ্গে বজ্র বিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হতে পারে। এলাকার ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে দেখা যাচ্ছে, জলের তোড়ে ভেসে যাচ্ছে বহু যানবাহন।
সেন্ট্রাল রেলওয়ের মসজিদ, বাউকুল্লা, দাদর ও বদলাপুরে রেলের লাইন জলের নীচে চলে যায়। সেন্ট্রাল রেলওয়ের মুখ্য জন সংযোগ আধিকারিক স্বপ্ননীল নীলা বলেন, ‘শহরতলির ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ট্রেনগুলি কম গতিতে চালানো হচ্ছে।’ ওয়েস্টার্ন রেলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পরিষেবা স্বাভাবিক। তবে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেন, ট্রেন দেরিতে চলছে। মুম্বই মেট্রোর লাইন থ্রিতে জল উঠে যায়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ২৫০টি বিমানের পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। এদিন বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধে। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন।
মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি বৃষ্টি শুরু হয়েছে উপকূলবর্তী রাজ্যগুলিতে। কেরল, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু ও গোয়াতে আগামী সাতদিনের জন্য ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। কর্ণাটকে বিপর্যয় মোকাবিলা টিমকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তামিলনাড়ুর নীলগিরি এবং কোয়েম্বাটোরে ২৮ মে পর্যন্ত ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কেরলে বৃষ্টি ও ঝড়ে ভেঙে পড়েছে বহু গাছ। প্লাবিত বহু কৃষি জমি। গাছ পড়ে মৃত্যু হয়েছে একজন স্কুটার চালকের। কেরলের ১১টি জেলায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে গোয়ায়। এই নিয়ে পালোলেম সৈকতে দেওয়া হয়েছে নোটিস।