নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: জয়রাইডের নামে উশৃঙ্খলা। রাতের শহরে ঝড়ের গতিতে ছোটে বাইক, স্কুটার থেকে চার চাকা গাড়ি। দ্রুত গতিতে বাইক ছুটিয়ে মৃত্যুর নজিরও রয়েছে। তারপরও থেমে নেই জয়রাইড।
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: জয়রাইডের নামে উশৃঙ্খলা। রাতের শহরে ঝড়ের গতিতে ছোটে বাইক, স্কুটার থেকে চার চাকা গাড়ি। দ্রুত গতিতে বাইক ছুটিয়ে মৃত্যুর নজিরও রয়েছে। তারপরও থেমে নেই জয়রাইড।
রবিবার রাতে শিলিগুড়ি শহরের ভক্তিনগর থানায় ইস্টার্ন বাইপাসে একাধিক মানুষকে ধাক্কা মেরে জখম করে একটি বিলাসবহুল গাড়ি। ওই গাড়িতে ছিলেন দুই ব্যক্তি। স্থানীয়দের অভিযোগ, গাড়ির চালক ও আরোহী দু’জনই ছিলেন বেসামাল অবস্থায়।
বেপরোয়া গাড়িটি অন্য গাড়ি এবং ডিভাইডারেও ধাক্কা মারে। পুলিস অবশ্য জানিয়েছে, চালক ও আরোহী বেসামাল অবস্থায় ছিলেন, এমন কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি।
যদিও গাড়িটি থামায় স্থানীয়রাই। পুলিস অভিযুক্ত দু’জনকে ভক্তিনগর থানায় নিয়ে আসে। কেউ এ নিয়ে লিখিত কোনও অভিযোগ না করায় পুলিস তাদের সতর্ক করে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করে। গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে থানায় রাখে।
জয়রাইডের নামে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে লোকজনকে জখম করার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরে। স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে খবর, রবিবার অনেক রাতে ইস্টার্ন বাইপাস দিয়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়িটি ছুটছিল। সেই সময় ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে তিনজন গাড়ির ধাক্কায় জখম হন। লোকজন চিৎকার চেঁচামেচি করায় চালক গাড়ির গতি বাড়িয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করলেও সফল হননি। স্থানীয়রাই গাড়ি থামান। ভক্তিনগর থানার পুলিস চলে আসে। ডিভাইডারে ধাক্কা মারায় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়।
পরবর্তীতে জখমরা থানায় আসেন। তাঁরা অভিযোগ করতে এলে অভিযুক্তরা ক্ষমা চেয়ে নেন। তাঁদের চিকিৎসার জন্য সাহায্য করবে বলেন। জখমরা তাই লিখিত অভিযোগ করেননি। পুলিস তাঁদের ছেড়ে দিলেও একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এ বিষয়ে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, একটি দুর্ঘটনার খবর শুনেছি। তবে চালক-সওয়ারি বেসামাল অবস্থায় ছিলেন, এমন কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।
যদিও ভক্তিনগর থানা এলাকার সেভক রোড, ইস্টার্ন বাইপাস রাতে বেপরোয়া গাড়ি চলাচল করে বলে অভিযোগ আমরা প্রায়ই পাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট রাস্তাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, স্থানীয়দের অভিযোগ, সেভক রোডে বেশ কয়েকটি পানশালা রয়েছে।
সরকারি নিয়ম তোয়াক্কা না করে কয়েকটি অনেক রাত পর্যন্ত খোলা থাকছে। সেসব জায়গা থেকেই আকণ্ঠ মদ্যপান করে লোকজন বের হয়। তারপর সেভক রোড, ইস্টার্ন বাইপাস, ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ঝড়ের গতিতে বাইক, স্কুটার এমনকী গাড়ি ছুটিয়ে চলে।
রাতে শিলিগুড়ি শহরে ফাঁকা রাস্তায় বাইকের রেস হামেশাই চলে। কিছুদিন আগে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন উড়ালপুলে দ্রুত গতিতে বাইক ছুটিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্ধমান রোডের নির্মীয়মাণ উড়ালপুলে সামনে টিনের বেড়া দেওয়া অংশে দ্রুত গতিতে বাইক ছুটিয়ে ধাক্কা মেরে মৃত্যু হয়েছিল দুই যুবকের। এছাড়াও প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে বাইক-স্কুটার চালানোয় রাতের শহরে মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি। - নিজস্ব চিত্র।