গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: ‘বিদ্রোহী’ কাউন্সিলাররা সব গেলেন কোথায়! কার্যত খোঁজ খোঁজ রব বালুরঘাট শহরে। পুরসভায় আসছেন না চেয়ারম্যান অশোক মিত্রও। ফলে পরিষেবা নিতে আসা অনেকে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। ক্ষোভ বাড়ছে তলায় তলায়।
গোপাল সূত্রধর, বালুরঘাট: ‘বিদ্রোহী’ কাউন্সিলাররা সব গেলেন কোথায়! কার্যত খোঁজ খোঁজ রব বালুরঘাট শহরে। পুরসভায় আসছেন না চেয়ারম্যান অশোক মিত্রও। ফলে পরিষেবা নিতে আসা অনেকে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। ক্ষোভ বাড়ছে তলায় তলায়।
সূত্রের খবর, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা ১৪ বিদ্রোহী কাউন্সিলার বালুরঘাটের বাইরে কোথাও গা ঢাকা দিয়েছেন। অনাস্থা প্রস্তাবের বৈঠকের আগে কাউন্সিলাররা কোথায় ঘাঁটি গেড়েছেন, তা নিয়েই এখন চর্চা শহরে।
এসআইআর পর্ব চলছে। এমন সময় শহরের বাসিন্দারা বিভিন্ন বিষয়ে কাউন্সিলারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাহায্য চাইছেন। কিন্তু কোনও প্রয়োজনে তাঁদের না পাওয়ায় তলে তলে ক্ষোভ ছড়াচ্ছে বাসিন্দাদের মধ্যেও। এছাড়া শহরে বিভিন্ন দৈনন্দিন পরিষেবাও থমকে গিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের। এবিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে কাউন্সিলারদের ফোন ও মেসেজ করা হলেও তাঁরা উত্তর দেননি। মুখ বন্ধ রেখেছেন তৃণমূল জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়ালও। সবমিলিয়ে অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে অদ্ভূত জটিলতা নিয়েই এখন চর্চা শহরজুড়ে। পাশাপাশি, তৃণমূলে বিপ্লব ও বিরোধী গোষ্ঠীর সমীকরণ নিয়েও চলছে আলোচনা। গত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে জেলার সদর শহরে পুরসভা থেকে জেলা পরিষদ এবং দলের অন্যতম বড় পদগুলি কার্যত দখল করেছেন বিপ্লব গোষ্ঠীর অনুগামীরা। এদিকে বিপ্লব গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী শংকর চক্রবর্তী, প্রাক্তন সাংসদ অর্পিতা ঘোষ এমনকী প্রাক্তন জেলা সভাপতিদের সঙ্গেও কোন্দল চরমে। পুরসভার এই অনাস্থা ঘিরে বিপ্লবপন্থীদের বিরুদ্ধে কার্যত এক হয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে বিরোধী গোষ্ঠী। বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ অশোক মিত্রকে সরাতে বালুরঘাটে সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলাররা জোট বেঁধেছেন। কেউ যাতে ভাঙন ধরাতে না পারে, সেজন্য কাউন্সিলারদের এই আত্মগোপন বলে মনে করছে দলের একাংশ। এই টানাপোড়েনে ভুগতে হচ্ছে পুরবাসীকে। বালুরঘাট শহরের নাবাবঙ্গীর পবন চৌধুরীর কথায়, দু’দিন ধরে ইনকাম সার্টিফিকেটের জন্য ঘুরছি। পুরসভায় কাউকেই পাচ্ছি না বলে সব কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে অনাস্থা নিয়ে রবিবার রাতে বালুরঘাট শহরে বিপ্লব মিত্র অনুগামী জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বেশকিছু অশোকপন্থী কাউন্সিলার বৈঠক করেন। এরপর রাতে কয়েকজন কাউন্সিলারের দেখা মেলে বালুরঘাট থানা চত্বরে। কিন্তু এনিয়ে কেউই মুখ খোলেননি। অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে প্রশাসনিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি। সোমবার অফিস খুলতেই পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারকে চিঠি দিয়েছেন এসডিও। তাতে অনাস্থা নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বালুরঘাট সদর মহকুমা শাসক সুব্রত কুমার বর্মন বলেন, অনাস্থার চিঠি পেয়েছিলাম। এগজিকিউটিভ অফিসারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছি।পুর চেয়ারম্যানের মন্তব্য, আমাকে এগজিকিউটিভ অফিসার বিষয়টি জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত কাজে বাইরে রয়েছি। ফিরে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সবটাই দলকে জানিয়েছি।
প্রশাসন সূত্রে খবর, এসডিওর চিঠির ভিত্তিতে এগজিকিউটিভ অফিসার চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বৈঠক ডাকবেন। পুর আইন অনুযায়ী, চেয়ারম্যান যদি সেই বৈঠক না ডাকেন, সেক্ষেত্রে ভাইস চেয়ারপার্সন সেই দায়িত্ব পালন করবেন। তিনিও যদি এই পদক্ষেপ না নেন, তাহলে অনাস্থা আনা তিন কাউন্সিলার বৈঠক ডাকবেন। পুরসভায় যেহেতু ভাইস চেয়ারপার্সন নেই, বিকল্প আইন ও পদ্ধতি ঘেঁটে দেখছেন আধিকারিকরা।