নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতিবছর বিপর্যয় দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাজ্য সরকার। সারাবছর ধরেই জেলার গুদামে জমা করা হয় ত্রিপল, কম্বল, ধুতি, শাড়ি ও অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী। বিপর্যয়ের সময় সেখান থেকে তা দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এবার একটি নয়া ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে রাজ্য। গুদামগুলি থেকে কত পরিমাণ সামগ্রী বের করা হচ্ছে তার রিয়েল টাইম মনিটরিং হবে। অর্থাৎ সরাসরি নজরদারি চালাবে নবান্ন। এই কাজের জন্য অনলাইন ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে।
রাজ্যস্তরের চারটি গুদাম এবং প্রতি জেলাতেই বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের বড়ো আকারের গুদাম আছে। বর্তমানে যে ব্যবস্থা চালু আছে তাতে গুদামে কত পরিমাণ সামগ্রী রাখা হল এবং বের করা হল তার হিসাব লেখা হয় খাতায়। এই কাজের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট স্টোর কিপারের উপর। কিছু ক্ষেত্রে হিসাবে গড়মিল ধরা পড়েছে। সম্প্রতি নবান্ন খেকে গুদামগুলিতে পদস্থ আধিকারিকদের পরিদর্শনে পাঠানো হয়েছিল। সূত্রের খবর, মালদহের জোনাল গুদাম থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছিল ত্রিপল। এই ঘটনায় পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে রাজ্য। এর পাশাপাশি দেখা গিয়েছে, অনেক গুদামে যত পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী থাকার কথা তার থেকে বেশি পরিমাণ পাওয়া গিয়েছে। হিসাবে গরমিলের কারণেই এই সমস্যা বলে জানান প্রশাসনিক আধিকারিকরা। বিষয়গুলি সামনে আসার পরই এমআইএস অনলাইন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এমআইএস অনলাইন ব্যবস্থা আসলে কী?
তা হল, প্রথমে গুদামে কম্পিউটার বসানো হবে। তার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পোর্টালে ঢুকে নির্দিষ্ট ত্রাণ সামগ্রী এবং তার পরিমাণ আপলোড করতে হবে। তবেই তা বাইরে নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র মিলবে। পাশাপাশি রিয়েল টাইম মনিটরিং করবে নবান্ন। ফলে অপ্রয়োজীয় এবং অনুমোদিত সামগ্রী বের করার চেষ্টা হলে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে পারবেন আধিকারিকরা।
বর্তমান ব্যবস্থায় বিপর্যয়ের জন্য অপেক্ষা না করে বছরের শুরু থেকেই গুদামগুলিতে ত্রাণ সামগ্রী মজুত শুরু করে রাজ্য সরকার। ফলে কোন গুদামে কত জিনিস আছে তা এখন থেকে কম্পিউটারে বসে এক ক্লিকেই বুঝতে পারবেন নবান্নে উপস্থিত আধিকারিকরা। এক্ষেত্রে সামগ্রী কম থাকলে ব্যবস্থা নেওয়াও সহজ হবে। এর জেরে আটকাবে হিসাবে গড়মিলের সম্ভাবনা।