নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বৃহস্পতিবার ছিল ইনিউমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। বুধবার রাতে বিএলওদের কাছে আসে কমিশনের নতুন ফরমান। তাঁদের এলাকার একগুচ্ছ ভোটারের নথি নতুন করে যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। যার পোশাকি নাম রি-ভেরিফিকেশন। অ্যাপে নির্দিষ্ট ভোটারের নামে লাল কালির দাগ দিয়ে, কেন সন্দেহজনক তাও উল্লেখ করা আছে।
বিএলওদের হয় দায়িত্ব নিয়ে উল্লেখ করতে হবে, ‘নো অ্যাকশন রিকোয়ার্ড’, অথবা তাঁর দেওয়ার তথ্য যে সঠিক তার সপক্ষে নথি দিতে হবে। কারা এই রি-ভেরিফিকেশনের আওতায়? প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যেসব ভোটারের বয়সের সঙ্গে তাঁদের বাবা-মায়ের বয়সের ৪৫ বছর বা তার বেশি পার্থক্য রয়েছে তাঁরা, যাঁদের বয়স বাবা-মায়ের বয়সের থেকে ১৮ বছর বা তাঁর কম পার্থক্যের তাঁরাও ‘সন্দেহভাজন’। এছাড়া যেসব ভোটারের বয়স এখন ৪৫ বছর বা তাঁর বেশি, তাঁরা যদি ২০০২ সালে নিজের ভোটার কার্ডের তথ্য না দিয়ে বাবা বা মায়ের লিঙ্কেজ দিয়েছেন তাঁরাও সন্দেহজনক। তৃতীয়ত বাবা, মায়ের নামের বানানের সঙ্গে সন্তানদের বানানের সামান্যতম পার্থক্য থাকলে তাঁরাও রিভেরিফিকেশনের আওতায় আসবেন।
ফর্ম জমা দেওয়ার আগের রাতে কমিশনের এই নতুন ফরমান নিয়ে উদ্বেগে বিএলওরা। প্রশ্ন উঠছে, কমিশন শেষ মুহূর্তে কেন এই ফরমান জারি করল। যেখানে তাঁরা উল্লেখ করেছিল ইনিউমারেশন ফর্ম জমা করলেই খসড়া ভোটার তালিকায় নাম উঠবে, সন্দেহ হলে তাঁদের হেয়ারিংকে ডাকা হবে। তার বদলে কমিশনের কেন এত তোড়জোড়। আরও একটি প্রশ্ন জোরাল হচ্ছে, বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায় পদবিতে বাংলা বানানের সঙ্গে ইংরেজি বানানের হেরফের হয়ে যায়, সেক্ষেত্রেও রি-ভেরিফিকেশনের নির্দেশ এসেছে। গ্রামে বহু ক্ষেত্রেই মেয়েরা ১৮ বছরের আগে মা হন বা ৪৫ বছরের পরেও অনেকে বাবা হয়েছেন। তাঁদের সন্তানরা কীভাবে সন্দেহজনক হন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি বাড়ছে হয়রানিও। বিএলওরা সংশ্লিষ্ট ভোটারকে ফোন করে বিষয়টি জানাতে তাঁরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, তাহলে কি খসড়া তালিকা থেকেই নাম বাদ পড়বে।
রানিগঞ্জের তৃণমূল কংগ্রেসের শহর সভাপতি রণজিৎ সিং বলেন, শেষ মুহূর্তে কেন রি-ভেরিফিকেশনের নির্দেশ এল। বিভিন্ন সময়ে বিএলওরা মানুষের কাছে নানা তথ্য চাইছেন, এতে মানুষের আতঙ্ক ক্রমশ বাড়ছে। বিজেপির কথায়, খসড়া তালিকা থেকেই যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
এক প্রশাসন আধিকারিক বলেন, নির্বাচন কমিশন বিএলওর আপলোড করা তথ্য এআই দিয়ে চেক করাচ্ছে। তাদের নিয়ে নানা ত্রুটি খুঁজে বের করতে গিয়েই এই দশা। জেলার আরও একটি সমস্যা সামনে এসেছে। জেলার প্রায় ১ লক্ষ ৪৫ হাজার ভোটারের ২০০২ সালের লিঙ্কেজ খুঁজে পাওয়া যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, এর অন্যতম কারণ ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার বহু জেলার নাম, বিধানসভার নাম পাল্টে গিয়েছে। তাই অনেকে যোগ্য ভোটার হয়েও সেই পূর্ববর্তী লিংক খুজে পাননি। জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, রি-ভেরিফিকেশনের নির্দেশ এসেছে। বিএলওরা সেই কাজ করছেন। পাশ্ববর্তী রাজ্যের বহু জেলার নাম পরিবর্তন হওয়ার জন্য অনেকের লিঙ্ক করতে সমস্যা হয়েছে। আমরা হেয়ারিংয়ের সময়ে বিষয়টি মানবিকতার সঙ্গে খতিয়ে দেখব।