Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রবিবার তমলুক সমবায়ে ভোট, তৃণমূল-বিজেপি দ্বৈরথে তপ্ত নন্দীগ্রাম  

রবিবার তমলুক সমবায়ে ভোট, তৃণমূল-বিজেপি দ্বৈরথে তপ্ত নন্দীগ্রাম
 
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আগামী ৮ ডিসেম্বর তমলুক কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার ব্যাঙ্কের ভোটের আগে তৃণমূল-বিজেপির দ্বৈরথে তপ্ত নন্দীগ্রাম। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের দাউদপুর পঞ্চায়েতের কাঞ্চননগর দিয়ারুদ্দিন বিদ্যাভবনে গোটা ব্লকের সমবায় সদস্যরা ভোট দেবেন। ভোটের তিনদিন আগে থে঩কেই সেখানে ক্যাম্প বাঁধার কাজ শুরু করেছে তৃণমূল ও বিজেপি। আর এই ক্যাম্প বাঁধা নিয়েই যত ঝামেলা। কো-অপারেটিভ ইলেকশন কমিশনের নির্দেশ ভেঙে তৃণমূল ২০০ মিটারের মধ্যে চারটি ক্যাম্প করছে বলে বিজেপির অভিযোগ। এনিয়ে বুধবার দলের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে মামলা করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় তার শুনানি হয়। বিজেপির পক্ষ থেকে ২০০ মিটারের মধ্যে ক্যাম্প করার অভিযোগ করা হলেও তৃণমূলের পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ খণ্ডন করা হয়। শেষপর্যন্ত বিচারপতি কৌশিক চন্দ স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করে ওই ক্যাম্প পরিদর্শনে পাঠান। এদিন বিকেলে হাইকোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসার নন্দীগ্রামে এসে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থেকে ক্যাম্পের দূরত্ব মাপজোক করেন।
Advertisement
বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা ওই ভোট গ্রহণ কেন্দ্র লাগোয়া বিজেপির ক্যাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিডিওর কাছে অভিযোগ জানিয়েছে। সরকারি খেলার মাঠ দখল করে বিজেপি ক্যাম্প করায় খেলাধুলো এবং নির্মাণ আটকে গিয়েছে বলে স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ শেখ সামসুল ইসলাম নন্দীগ্রাম-১ বিডিওকে অভিযোগ করেছেন। তার কপি জেলাশাসক, পুলিস সুপার, মহকুমা শাসক, থানার আইসি এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারকে দেওয়া হয়েছে।
নন্দীগ্রাম-১ ব্লক এলাকার মোট সাতটি আসনে ভোট হবে। ওই সাতটি আসন থেকে সাতজন ডেলিগেট নির্বাচিত হবেন। ওই ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ৫৯২১ জন ভোটার দাউদপুরের ওই ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট হবে। তারপর ভোট শেষে সেখানে গণনা হবে। 
তমলুক কো-অপারেটিভ এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ব্যাঙ্কের মোট ১২টি জায়গায় ভোট হবে। তমলুক ও হলদিয়া মহকুমা এলাকায় মোট ৬৯টি আসনে ভোট হবে। মোট ভোটার সংখ্যা ৫৫ হাজার ৪৭১। ব্যাঙ্কের বোর্ড দখল করতে তৃণমূল ও বিজেপি দু’পক্ষ ঝাঁপিয়ে পড়েছে। নন্দীগ্রামে শক্তিতে কারা এগিয়ে তা আরও একবার যাচাই হবে এই সমবায় ভোটে। সেই শক্তি পরীক্ষার প্রাক্কালে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। হাইকোর্ট মনোনীত স্পেশাল অফিসারের উপস্থিতিতে মাপজোক চলাকালীন দু’পক্ষের লোকজন জড়ো হন। বেশ উত্তেজনা বাড়ে। 
কয়েকদিন আগেই অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার সব দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে মিটিং করেন। তিনি জানান, ভোট গ্রহণ কেন্দ্রের ২০০ মিটার ছেড়ে ক্যাম্প করা যাবে। এরপরই নন্দীগ্রামে ক্যাম্প নিয়ে ঝামেলা তুঙ্গে ওঠে। এনিয়ে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল বলেন, কমিশনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তৃণমূল ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ২০০ মিটার এলাকার ভিতরে পর পর চারটি ক্যাম্প করেছিল। আমাদের আপত্তি গ্রাহ্য করেনি। শেষমেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হই। হাইকোর্ট স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করে এখানে পাঠিয়েছিল। মাপজোকে দেখা যায়, ২০০ মিটারের মধ্যে ওদের সবক’টি ক্যাম্প রয়েছে। সেগুলি সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সত্যরঞ্জন সাউ বলেন, বিজেপি খেলার মাঠ দখল করে ক্যাম্প করছে। তাতে নিয়ম ভাঙা হয়নি? ভোটে ওদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে সামান্য বিষয় নিয়ে ঝামেলা তৈরি করছে।
সম্পর্কিত সংবাদ