নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: চেয়ারম্যান পদ ছাড়তে নারাজ রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। এই পরিস্থিতিতে কোচবিহার পুরসভা নিয়ে দলীয় স্তরে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে জেলা নেতৃত্ব? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে। যদিও দলের পক্ষ থেকে এরকম কোনও সম্ভাবনার কথা বলা হয়নি। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা তৃণমূল কংগ্রেস অফিসে কোচবিহার পুরসভার একদল কাউন্সিলারকে নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে ২০ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ১৫ জন উপস্থিত ছিলেন। কোচবিহার পুরসভা নিয়ে ডামাডোলের মধ্যে দলীয় কাউন্সিলারদের নিয়ে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বের বৈঠক রীতিমতো তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ওই জল্পনা বেড়েছে বৈঠক শেষে একেক কাউন্সিলারের একেকরকম বয়ানে।
জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক মুখে কুলুপ এঁটেছেন। একাধিক কাউন্সিলারের দাবি,কোচবিহারের ক্যানসার হাসপাতাল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খোদ উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ আবার দাবি করেন, কোচবিহারের উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক হয়েছে। তবে বৈঠকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অভিজিৎ মজুমদার, ১৩ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুই বাম কাউন্সিলার ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রেবা কুণ্ডু বাদে বাকি সমস্ত কাউন্সিলার উপস্থিত ছিলেন। দলের জেলা সভাপতি তথা ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অভিজিৎ দে ভৌমিক, দলের জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ, জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি আব্দুল জলিল আহমেদ সহ অন্যান্য বেশকিছু নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ কিন্তু নিজের মেজাজেই শহরে ঘুরছেন। মঙ্গলবার সকালে পার্ক উদ্বোধন, পুরসভার অফিস পরিচালনা, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রয়োজনীয় আলোচনা করা, সন্ধ্যায় রাসমেলার অনুষ্ঠান মঞ্চ, সবই স্বাভাবিকভাবে করে চলেছেন তিনি। পাশাপাশি নিজের অবস্থানে এখনও অনড় রয়েছেন। পদত্যাগ প্রশ্নে প্রথম দিনের মতো এদিনও তিনি দাবি করেন, দলনেত্রী বা রাজ্য নেতৃত্বের থেকে নির্দেশ এলেই তিনি সরে যাবেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও নির্দেশ আসেনি বলে তিনি জানান। উদয়ন গুহ বলেন, সামনে নির্বাচন। এদিনের বৈঠকে কোচবিহার শহরের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দিলীপ সাহা বলেন, এদিনের বৈঠকে ক্যানসার হাসপাতাল নিয়ে আলোচনা করেছি আমরা।