সংবাদদাতা, চাঁচল: মালদহের রতুয়ায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ত্রাণ ও খাবার নিয়ে দুর্গতদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে। সোমবারও জলমগ্ন হয়ে রয়েছে গঙ্গা ও ফুলহার নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা। বিলাইমারি ও মহানন্দটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের জিতুটোলা, মুনিরামটোলা, গঙ্গারামটোলা ও গদাই মহারাজপুর সহ একাধিক গ্রাম এখনও জলের তলায়। করুণ পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন নিউ বিলাইমারি মাদ্রাসা ত্রাণ শিবিরে আশ্রিত পরিবারগুলি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুরুতে গদাই মহারাজপুরের ৫০টি পরিবার সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল। প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা ও খাবারের অভাবের কারণে একে একে অনেকেই শিবির ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বা অন্যত্র চলে গিয়েছেন। বর্তমানে শিবিরে সাতটি পরিবারের ৩০ জন রয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, সাত দিন আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছিল। তারপর খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে মাটির উনুনে রান্না করে কোনওরকমে খাচ্ছেন। জ্বালানি না থাকায় রাতে রান্না হয় না। তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য নাসিমা বিবি নিজেও ওই শিবিরে আশ্রিত। তিনি বলেন, খাবারের অভাবে একে একে সবাই চলে যাচ্ছে। জ্বালানি না থাকায় আধসিদ্ধ ভাত খেয়ে দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলি। আমি নিজেও ভিটেমাটি হারিয়ে এই শিবিরেই আশ্রয় নিয়েছি। সোমবার বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা নৌকা নিয়ে ওই ত্রাণ শিবিরে পৌঁছে দুর্গতদের ক্ষোভের কথা শোনেন।
অন্যদিকে, ত্রাণ সামগ্রী নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। গদাই মহারাজপুরে কয়েকশ পরিবারের বসবাস। অনেকেই ত্রিপল পাননি বলে অভিযোগ। নার্গিস বিবি নামে এক দুর্গত বলেন, প্রশাসনের লোকজন এসে বাড়িঘরের ছবি তুলে নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ত্রিপল পাইনি।
চাঁচলের মহকুমা শাসক শৌভিক মুখোপাধ্যায় বলেন, বিলাইমারি পঞ্চায়েতের অনেক এলাকায় রান্না করা খাবার বাসিন্দারা খেতে চান না। প্রশাসনের তরফে নিয়মিত শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। ওই শিবিরটি
কী অবস্থায় রয়েছে তা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।