Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খণ্ডঘোষে রেশন কেলেঙ্কারি প্রচুর চাল-আটা উদ্ধার, পর্দা ফাঁস ডিইবি’র, ধৃত গোডাউন মালিক

রাজ্য সরকার রেশন দোকানের মাধ্যমে বাসিন্দাদের ভালো মানের চাল, গম সরবরাহ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

খণ্ডঘোষে রেশন কেলেঙ্কারি প্রচুর চাল-আটা উদ্ধার, পর্দা ফাঁস ডিইবি’র, ধৃত গোডাউন মালিক
  • ২১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রাজ্য সরকার রেশন দোকানের মাধ্যমে বাসিন্দাদের ভালো মানের চাল, গম সরবরাহ করার উদ্যোগ নিয়েছে। তাতে বহু পরিবার নিশ্চিন্তে দিন কাটাচ্ছে। কিন্তু তার মধ্যেও একটি চক্র গরিবের খাবার হাতিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে। এরকমই খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার জেলা পুলিশের ডিইবি বিভাগ খণ্ডঘোষের আমলাবাজারে অভিযান চালায়। সেখান থেকে ১৬০ বস্তা চাল উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া, প্রচুর সংখ্যক আটার প্যাকেট উদ্ধার হয়েছে। আধিকারিকদের দাবি, রেশনের সামগ্রী এই গোডাউনে মজুত করে খোলা বাজারে বিক্রি করা হত। আটা বস্তা থেকে বের করে প্যাকেটের মাধ্যমে বিক্রি করা হত। রেশন সামগ্রীর কালোবাজারি করার অভিযোগে পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। এক আধিকারিক বলেন, ওই ব্যক্তি রেশনের সামগ্রী খোলা বাজারে বিক্রি করার কথা স্বীকার করে নিয়েছে। তবে, সেগুলি কোথা থেকে সে সংগ্রহ করত, তা স্পষ্ট নয়। কোনও রেশন দোকান এই ঘটনায় যুক্ত রয়েছে কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু পরিবার রেশন থেকে চাল ও আটা নিয়ে ব্যবসায়ীদের বিক্রি করে দেয়। অনেকে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি সামগ্রী পান। অতিরিক্ত সামগ্রী তাঁরা বিক্রি করে দেন। সেসব কিনে অনেকে আলাদাভাবে প্যাকেটজাত করে। পরে সেগুলি চড়া দামে বিক্রি করে। আধিকারিকদের দাবি, রেশন সামগ্রী এভাবে খোলা বাজারে বিক্রি করা যায় না। পরিবারের সদস্যদের চাহিদা মেটানোর জন্যই রেশন সামগ্রী দেওয়া হয়। তা নিয়ে ব্যবসা করা যায় না। বিভিন্ন এলাকায় রেশন সামগ্রী কিনে একশ্রেণির ব্যবসায়ী ফায়দা তুলছেন। সেরকম ইনপুট আসার পরই অভিযান চালান হয়। খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের দাবি, কোনও রেশন দোকান মালিক এই চক্রে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দোকানে অনিয়ম বন্ধ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি রেশন দোকানে বিশেষ মেশিন দেওয়া হয়েছে। পরিবারের কোনও একজনের আঙুলের ছাপ নিয়ে রেশন দেওয়া হয়। সামগ্রী দেওয়ার পর গ্রাহকদের রসিদ দেওয়া হয়। তারপরও কেউ অনিয়ম করলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পূর্ব বর্ধমান জেলার খাদ্যদপ্তরের আধিকারিক শেখ আলিমুদ্দিন বলেন, খণ্ডঘোষের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, গোডাউনের মধ্যে আটার অনেক খোলা প্যাকেট পাওয়া গিয়েছে। আটা বের করে অন্য প্যাকেটে ভরা হয়। রেশন দোকানের আটার প্যাকেটে বিশেষ ছাপ থাকে। সেই প্যাকেট বাইরে বিক্রি করলে তা আধিকারিকদের নজরে আসতে পারে। সেই কারণেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছিল। বহুদিন ধরেই ধৃত ব্যক্তি কারবার চালাচ্ছে বলে সে জেরায় স্বীকার করে নিয়েছে। আটা বিক্রি করে সে বেশি ফায়দা তুলত। খণ্ডঘোষ ও রায়নার বিভিন্ন এলাকায় ওই আটা এবং চাল বিক্রি করা হত বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।  চলছে অভিযান। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ