Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অবসরের পরও রোজ স্কুলে ক্লাস নেন রতন স্যার

যে স্কুলে কেটেছে শৈশব ও কৈশোর, পরবর্তীকালে সেখানেই কর্মজীবন শুরু। সেই স্কুলের ছাত্রদের মানুষ করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন আর পাঁচজন শিক্ষকের মতো।

অবসরের পরও রোজ স্কুলে ক্লাস নেন রতন স্যার
  • ২৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, চোপড়া: যে স্কুলে কেটেছে শৈশব ও কৈশোর, পরবর্তীকালে সেখানেই কর্মজীবন শুরু। সেই স্কুলের ছাত্রদের মানুষ করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন আর পাঁচজন শিক্ষকের মতো। কর্তব্যে অবিচল সেই শিক্ষক কী করে যে জীবনের তেত্রিশটি বছর কাটিয়ে ফেলেছিলেন, বুঝতেও পারেননি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে চাকরি থেকে অবসর নিলেও স্কুল ও ছাত্রদের ভুলতে পারেননি বছর একষট্টির রতন দত্ত। ‘নিজের স্কুল’ ও প্রাণপ্রিয় ছাত্রদের টানে একইভাবে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে যাচ্ছেন সদর চোপড়ার এই শিক্ষক। অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষকের নিঃস্বার্থ কাজ মুগ্ধ করেছে চোপড়া হাইস্কুলের শিক্ষকদের। ‘বাংলার’ স্যারকে পেয়ে খুশি ছাত্ররাও। শিক্ষক সঙ্কটে এই শিক্ষক এগিয়ে আসায় বেজায় খুশি পড়ুয়াদের অভিভাবকরা।    

Advertisement

চোপড়া হাইস্কুলের প্রাক্তন ছাত্র রতনবাবু এই স্কুলেই ৩৩ বছর শিক্ষকতা করেছেন। সদর চোপড়ায় থাকেন। তিনি জানান, এমনিতে স্কুলে শিক্ষকের সঙ্কট। তাই বাড়িতে বসে না থেকে পড়ুয়াদের কথা ভেবে স্কুলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রোজ নিয়ম করে আগের মতোই কুর্তা, পাজামা পরে দশটায় স্কুলে চলে আসেন। ঘণ্টা পড়ার পরই কমনরুম থেকে বই, চক, ডাস্টার নিয়ে চলে যান ক্লাসে। পড়ুয়াদের পড়ান সাহিত্য, কবিতা, ব্যাকরণ। গল্প বলে বুঝিয়ে দেন ছাত্রদের। এক ক্লাস শেষ হলে চলে যান অন্যটিতে। পড়ানোয় যেন কোনও ক্লান্তি নেই ছিপছিপে চেহারার এই মানুষটির। তাঁর ব্রত-মানুষ তৈরি করা।   
রতনবাবুর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন চোপড়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত বসাকও। তাঁর কথায়, রতনবাবু বাংলার শিক্ষক। পড়ুয়াদের সুবিধার্থে স্বেচ্ছায় সার্ভিস দিচ্ছেন। রুটিন তৈরি করে তাঁকে ক্লাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন স্কুলে আসেন। 
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সমীর বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রতন স্যারের মতো শিক্ষক সত্যিই বিরল। তাঁর এই ফিরে আসা আমাদের স্কুল এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিরাট প্রাপ্তি। এখনও নিয়ম করে স্কুলে এসে ক্লাস নেন।
নবম শ্রেণির ছাত্র অর্কদীপ সাহা জানায়, স্যারের অবসরের খবর শুনে আমাদের খুব মন খারাপ হয়েছিল। প্রিয় বাংলা স্যারকে ফের ফিরে পেয়ে  সবাই খুশি। 
নীতা পাল, তন্ময় রায়ের মতো পড়ুয়াদের কথায়, রতন স্যার আমাদের কাছে শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি পথপ্রদর্শক। স্যার ফিরে আসায় আমরা নিশ্চিত যে, পড়াশোনায় অনেক উন্নতি করব।  নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ