Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মন্দির থেকে বিতাড়িত হয়ে দেবী বামেশ্বরীর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নিচু জাতের রতন বারুই

ধনেখালির ভাণ্ডারহাটির জাগ্রত বামেশ্বরী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা রতন বারুই। তাঁর দেবী আরাধনার মূল মন্ত্র ছিল সংগীত। তিনি নিজের হাতে তৈরি করেছিলেন মায়ের মাটির মূর্তি। দেবীর বাঁ পা আগে থাকায় নাম বামেশ্বরী। সংগীতের মধ্যে দিয়েই হয় দেবীর আরাধনা। বিশেষ দিনে আরতির সময় জলশঙ্খ অলৌকিকভাবে ঘুরত।

মন্দির থেকে বিতাড়িত হয়ে দেবী বামেশ্বরীর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নিচু জাতের রতন বারুই
  • ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: ধনেখালির ভাণ্ডারহাটির জাগ্রত বামেশ্বরী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা রতন বারুই। তাঁর দেবী আরাধনার মূল মন্ত্র ছিল সংগীত। তিনি নিজের হাতে তৈরি করেছিলেন মায়ের মাটির মূর্তি। দেবীর বাঁ পা আগে থাকায় নাম বামেশ্বরী। সংগীতের মধ্যে দিয়েই হয় দেবীর আরাধনা। বিশেষ দিনে আরতির সময় জলশঙ্খ অলৌকিকভাবে ঘুরত। বহু মানুষ আরতি দেখতে ভিড় জমাতেন মন্দিরে। এক সময় তালপাতা দিয়ে তৈরি এই মন্দির আজ বিশাল রূপ নিয়েছে। জাগ্রত এই দেবীকে ঘিরে রয়েছে বহু ঘটনা।

Advertisement

রতন বারুই এর জন্ম হয়েছিল ১৯৪৯ সালে। ছোট থেকেই পড়াশোনায় অমনোযোগী ছিলেন তিনি। অন্যান্য শিশুদের মতো আচরণ ছিল না তাঁর। পার্শ্ববর্তী গ্রাম কেশবপুরের কালীমন্দিরে রাতের অন্ধকারে যেতেন সাধনার জন্য। তিনি ছিলেন নিচু জাতের ও অব্রাহ্মণ। দেবীর তখন নিত্যপুজো হতো না। তিনি রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে শুরু করেন নিত্যপুজো, পাছে কেউ না দেখে ফেলে। তবে তাঁর এই সাধনার খবর গোপন থাকেনি। ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। মন্দির প্রাঙ্গণে তাঁর যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। শেষমেশ শ্মশানেই মাতৃ সাধনা শুরু করতেন তিনি। একদিন স্বপ্নাদেশ পেয়ে নিজের বাড়িতেই তৈরি করেন মাটির মূর্তি। তিনি চেয়েছিলেন কেশবপুরের দেবীর মতোই মায়ের ডান পা থাকবে আগে। কিন্তু তৈরি করার সময় ভুলবশত বাঁ পা আগে হয়ে যায়। সেই থেকেই এই দেবীর নাম হয় বামেশ্বরী। তালপাতার ছাউনিতে শুরু হয় পুজো। ধীরে ধীরে বামেশ্বর কালীর মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। রতন মহারাজের নির্দেশে তৈরি হয় মন্দির কমিটি। ১৯৭৫ সালে মহারাজের তৈরি মাটির কালী প্রতিমা পরিবর্তন করে পাথরের প্রতিমা আনার সিদ্ধান্ত হয়। নিজের হাতে তৈরি প্রতিমা বিসর্জন হবে, তা ভেবে রাতে ঘুমোতে পারেননি মহারাজ। নতুন মূর্তি তৈরির প্রথম পর্যায়ে দুর্ঘটনায় শিল্পীর হাত ভাঙে। পরবর্তীকালে দেবী মূর্তি তৈরি হয় বটে, তবে তা এই দেবীর মূর্তির মতো দেখতে নয়। মায়ের বাঁ পায়ের পরিবর্তে ডান পা আগে করে ফেলেছিলেন শিল্পী। শেষমেশ সিদ্ধান্ত হয়, মাটির প্রতিমায় থাকবে মন্দিরে। বর্তমানে অসাধারণ সুন্দর এই মন্দিরে রয়েছে গণেশ, রাধাকৃষ্ণ, বামেশ্বর (শিব) মন্দির ও দুর্গা দালান। 
মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে অমিয় সাহা, দীপঙ্কর ঘোষ ও বিশ্বজিৎ দত্ত বলেন, রতন মহারাজের মূল মন্ত্র ছিল সংগীত। দূরদর্শন, বেতার সহ একাধিক জায়গায় তাঁর ভক্তিমূলক গান সকলকে মুগ্ধ করেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা আরতির আগে এক ঘণ্টা দেবীর সামনে সংগীত পরিবেশন করতেন তিনি। শনিবার ও মঙ্গলবার বিশেষ পুজোয় তাঁর হাতের উপর ঘুরতো জলশঙ্খ। এই অলৌকিক দৃশ্য না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না। বর্তমানে প্রতি মাসের শেষ শনিবার অথবা মঙ্গলবার ভক্তদের ভোগ খাওয়ানো হয়। ১৬ চৈত্র মন্দিরের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ উৎসব হয়। ২২ জুলাই ২০২০ সালে রতন মহারাজ প্রয়াত হন। কালীপুজো ছাড়াও প্রতিদিন বহু ভক্ত সমাগম হয় এই মন্দিরে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ