নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় তৃণমূলের ব্লক ও শহর সভাপতি পদে রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। তার জেরে দলের নেতা-নেত্রীদের মধ্যে ইঁদুর দৌড় শুরু হয়েছে। নিজ নিজ অনুগামীদের ওই পদে বসাতে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে তাঁরা তদ্বির শুরু করেছেন। শুক্রবার কলকাতায় সাংগঠনিক বৈঠকে রদবদল নিয়ে আভাস পাওয়ার পর জেলার নেতা-নেত্রীরা ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছেন। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার সাংগঠনিক বৈঠকে ব্লক সভাপতি পরিবর্তন নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। সেখানে জেলা তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা নিজের লবি’র লোকজনকে সিংহভাগ ব্লকে সভাপতি পদে বসানোর আবদার করেন। রাজ্য নেতৃত্ব তাঁর সব আবদার মেনে না নেওয়ায় ওই নেতার গোঁসা হয়। তখন রাজ্য নেতৃত্ব তাঁকে জানিয়ে দেন, সামলাতে না পারলে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়। দল করতে গেলে সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। এর অন্যথা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়। রাজ্য তৃণমূলের সম্পাদক তথা বড়জোড়ার বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় বলেন, বৈঠকে সংগঠন নিয়ে আলোচ্য বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না। তবে বৈঠকে উপস্থিত দলের নেতা সুব্রত বক্সি ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির সফল রূপায়ণ ও পুরনো বসে যাওয়া কর্মীদের মূল স্রোতে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা জেলায় ফিরে তাঁদের নির্দেশমতো কাজ শুরু করে দিয়েছি। শাসক দল সূত্রে খবর, শীঘ্রই বাঁকুড়া শহর সহ জেলার একাধিক ব্লকে সভাপতি পদে রদবদল হতে চলেছে। বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার ন’টি ব্লক ও দু’টি শহরের বেশিরভাগ জায়গাতেই সভাপতি পরিবর্তন হতে পারে। মাঠে-ময়দানে নেমে সংগঠন করেন এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে, এমন নেতাদেরই ব্লক সভাপতি করার ব্যাপারে রাজ্য নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দ্রুত নতুনদের নাম ঘোষণা করা হবে। ব্লক সভাপতিরা আবার অঞ্চল ও বুথস্তরে রদবদলের জন্য জেলা নেতৃত্বের কাছে সুপারিশ করবেন। নতুন ‘টিম’ বিধানসভা ভোটকে পাখির চোখ করে শহর ও গ্রামে বুথস্তর থেকে সংগঠনকে মজবুত করবে। পুরো বিষয়টি দেখভাল করবে এক পরামর্শদাতা সংস্থার লোকজন। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, তালডাংরায় ব্লক সভাপতি পদে বর্তমানে কেউ নেই। জেলার এক নেতা সেখানে এক বালি কারবারিকে সভাপতি করতে চেয়েছিলেন। দল তাঁর বাসনায় জল ঢেলে দিয়েছে। একইরকমভাবে জঙ্গলমহলের এক জনপ্রতিনিধি খাতড়ায় নিজের প্রাক্তন আপ্ত সহায়ককে সভাপতি করার ব্যাপারে বায়না ধরেছিলেন। দল তাতেও অনুমোদন দেয়নি। তবে ওই দুই নেতা-নেত্রী হাল ছাড়তে নারাজ।



