সোমনাথ চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি: বিগত বছরগুলির মতো এ বছরেও রাস উৎসবের আয়োজন করেছে সন্ধানী সংঘ ও পাঠাগার। ময়নাগুড়ি ব্লকের শিঙিমারি চন্দ্রদেব হাইস্কুল মাঠে ৩৯তম বর্ষের রাস উৎসব শুরু হচ্ছে আজ, বুধবার। শুক্রবার, ৭ নভেম্বর পর্যন্ত এই উৎসব চলবে। রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে আয়োজক কমিটির সদস্যদের মধ্যে ব্যস্ততা তুঙ্গে। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা স্কুলের মাঠে পসরা সাজাবেন, তারজন্য বাঁশ বাঁধার কাজ মঙ্গলবার শেষ করেন। শতাধিক দোকান বসছে মেলায়। বিনোদনের জন্য নাগরদোলা থেকে শুরু করে শিশুদের মিকি মাউস থাকবে। রকমারি খাবারের দোকানও আসছে।
সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরতে রাস পূর্ণিমায় রাস উৎসবের সূচনা হয়েছিল। প্রায় চার দশক আগে নীরদবরণ রায়, ভলেন রায়, আফাজদ্দিন মহম্মদ, মহম্মদ জাব্বার আলি, রবীন্দ্রনাথ শীল, মিহির অধিকারী, তারিণী শর্মা সহ স্থানীয় বেশ কয়েকজন একত্রিত হয়ে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। এ বছর রাস উৎসব কমিটির যুগ্ম সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন দেবমোহন রায় ও মহম্মদ সোনাউল্লাহ হক। যুগ্ম সহ সভাপতি অঞ্জলি রায় ও সীমা রায়। যুগ্ম সম্পাদক চিত্তরঞ্জন শীল ও ভাস্কর রায়। যুগ্ম সহ সম্পাদক হেমলতা রায় ও পম্পা রায়। কোষাধ্যক্ষ বুবাই রায় ও সঞ্জয় রায়। হিসেব পরীক্ষক সমর শীল। এছাড়াও মেলা কমিটির সহ সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন মৃত্যুঞ্জয় রায়। এবার রাস উৎসবের মণ্ডপ তৈরি করেছেন কৃষ্ণ রায়, প্রতিমা বানিয়েছেন সুধীর পাল। সাউন্ড সিস্টেমে দিয়েছেন গৌতম সরকার।
প্রতিবছর সন্ধানী সংঘ ও পাঠাগারের রাস উৎসবে ময়নাগুড়ি ব্লক ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ধূপগুড়ি, গয়েরকাটা সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসে। তিনদিন জমজমাট হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। আয়োজক সন্ধানী সংঘ ও পাঠাগারের সভাপতি ভলেন রায় বলেন, পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় আমাদের এই উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ বছর আমাদের মেলার উদ্বোধক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সভাধিপতি কৃষ্ণা রায় বর্মনকে। এছাড়াও থাকবেন প্রশাসনিক কর্তারা। এই মেলা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার মেলা। গ্রামের সব ধর্মের মানুষ অংশ নেয়। নিজস্ব চিত্র।