সংবাদদাতা, কালনা: নাদনঘাটে মঙ্গলবার দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার দিন অভিযুক্ত ধৃত অষ্টম শ্রেণির ছাত্র নাবালিকাকে সাপ দেখানোর নাম করে টিউশন পড়ার শেষে খড়ি নদীর ধারে নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে শুকোতে দেওয়া পাট কাঠির গাদার আড়ালে পাশবিক অত্যাচার করে ধর্ষণ করে। ছেলের সঙ্গে সঙ্গ দেয় বাবা নুর আলম মণ্ডল। দু’জন নাবালিকার উপর পাশবিক অত্যাচার ও ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে খুন করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়। এরপর দ্রুত তারা গ্রামে ফিরে আসে। এই ঘটনাকে আড়াল করতে নাবালক ছাত্রটি গ্রামে ফিরে নাবালিকার পরিবারের কাছে অপহরণের গল্প ফেঁদে জানায়, একজন বাইকে করে তাদের মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার নাদনঘাট থানার বাসিন্দা দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী টিউশন পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়। ঘটনায় গ্রামের এক নাবালক অষ্টম শ্রেণির ছাত্র নাবালিকার পরিবারকে জানায় তাদের মেয়েকে একজন বাইকে তুলে নিয়ে গেছে। ওদিন বিকেলে নাদনঘাট থানার পুলিশ স্থানীয় খড়ি নদী থেকে নাবালিকা ছাত্রীর দেহ উদ্ধার করে। শরীরে ক্ষতচিহ্ন ছিল। নাবালক ছাত্রকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কথায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পুলিশ তদন্তে জানতে পারে ছাত্রটির বাবার সঙ্গে নাবালিকার পরিবারের বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক বিচ্ছেদের বিবাদ রয়েছে। বাবা ও ছেলেকে আটক করে পুলিশ। নাবালিকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার ধৃত নুর আলম মণ্ডলের কালনা সুপার স্পেশালিটি ও মহকুমা হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষা হয়।
এদিকে, অভিযুক্ত ধৃত বাপ, বেটার চরম শাস্তির দাবিতে সরব গ্রামের বাসিন্দারা। তারা চান দ্রুত দোষীদের চরম শাস্তি দেওয়া হোক। বৃহস্পতিবার সিপিআইএমএল লিবারেশন দলের ৯ সদস্যের একটি টিম নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। ওই পরিবারকে সমবেদনা জানান। দোষীদের শাস্তির দাবি করেন।