প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্রাম: বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঝাড়গ্রাম শহরের রাজ কলেজ মোড় সংলগ্ন ‘চবনলাল স্পেশাল ঝালমুড়ি’র দোকানে বেশ ভিড়। স্থানীয়রা তো বটেই, যাত্রাপথে পর্যটকরাও দাঁড়িয়ে পড়ছেন। কিন্তু, অন্য আর পাঁচদিনের চেয়ে দোকানে এত ভিড় কেন? ঝালমুড়ি খেতে খেতে এক যুবক বললেন, ‘অফার চলছে!’ এখন পুজোর আমেজ। শপিংমলে, জামা-কাপড়ের দোকানে অফার দেওয়াটাই দস্তুর। তা বলে ঝালমুড়ির দোকানেও অফার! খোলসা করলেন দোকানের মালিক বিক্রমকুমার সাউ। বললেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন। তাই এই অফার। ন্যূনতম ১০ টাকার মুড়ি কিনলেও ২০ গ্রাম মুড়ি ফ্রি।’ বাংলার ভোট-রাজনীতিতে আচমকাই ঢুকে পড়েছিল বিক্রমের এই দোকান। তখন জোরদার প্রচার চলছে বিধানসভা নির্বাচনের। জঙ্গলমহলে প্রচারে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী। বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হতে হঠাৎ তাঁর কনভয় দাঁড়িয়ে পড়ে বিক্রমের দোকানের সামনে। গাড়ি থেকে নেমে সটান ঢুকে পড়েন দোকানে। বলেন, ‘ভাই, হামে আপনা ঝালমুড়ি খিলাও...।’ সেদিন এভাবে ঝালমুড়ি খেয়ে বঙ্গ-রজনীতিতে অন্যমাত্রা যোগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই থেকে এই ঝালমুড়ির দোকানের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে। বিক্রমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ছবিও ভাইরাল হয় সমাজ মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী ঝালমুড়ি খাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলেন এই বলে—‘পশ্চিমবঙ্গজুড়ে চারটি জনসভার কর্মব্যস্ততার মধ্যে ঝাড়গ্রামে সুস্বাদু ও মশলাদার ঝালমুড়ি চেখে দেখলাম।’ বিধানসভার নির্বাচন পর্ব শেষ হল। বাংলা দখলের স্বপ্নপূরণ হল বিজেপির। দলের নেতা-কর্মীরা ঝালমুড়ি বিলিয়ে জয় উদযাপন করলেন। ক্রেতা বাড়তে শুরু করল বিক্রমের দোকানে। আজও জঙ্গলমহলে এই ঝালমুড়ির দোকান চর্চার কেন্দ্রে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ বিক্রম। এদিন সকালে দোকানে ঝাড় পোছ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে পুজো দিয়ে ঘোষণা করেছেন ঝালমুড়ির বিশেষ অফার—দোকানে ঝালমুড়ি খেলেই ২০ গ্রাম ফ্রি। ঝালমুড়ি বানাতে বানাতে বিক্রম বলছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্যের কামনায় পুজো দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর সেদিনের কথাগুলো আজ সকাল থেকেই কানে বাজছে। আজ তাঁর জন্মদিন। একটা কিছু করার কথা ভাবছিলাম ক’দিন ধরেই। তাই আমার সামর্থ্য মতো ২০ গ্রাম ঝালমুড়ির অফার দিচ্ছি ক্রেতাদের।’ ঝাড়গ্রাম বিজেপির নগর মণ্ডল সভাপতি অমিত দাস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে এদিন জেলাজুড়ে দলের কর্মী সমর্থকরা মন্দিরে পুজো দিয়েছেন। সন্ধ্যে সাতটায় পাঁচমাথা মোড় ও সাবিত্রী মন্দিরে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়েছে। বিধায়কের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ির খাওয়ার স্মরণে বিক্রমের



