Bartaman Logo
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘরে এখনও কোমর জল, চার দিনের পুত্রসন্তান নিয়ে ভূতনি ফিরলেন যুবতী

ঘরে এখনও কোমর সমান জল। ডুবে আছে রাস্তাঘাট। যাতায়াত বলতে একমাত্র ভরসা নৌকা। তাও সন্ধ্যার পর তা বন্ধ। এ হেন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও চারদিনের পুত্রসন্তানকে নিয়ে বৃহস্পতিবার ভূতনি ফিরলেন টুটু খাতুন।

ঘরে এখনও কোমর জল, চার দিনের পুত্রসন্তান নিয়ে ভূতনি ফিরলেন যুবতী
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ভূতনি (মানিকচক): ঘরে এখনও কোমর সমান জল। ডুবে আছে রাস্তাঘাট। যাতায়াত বলতে একমাত্র ভরসা নৌকা। তাও সন্ধ্যার পর তা বন্ধ। এ হেন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও চারদিনের পুত্রসন্তানকে নিয়ে বৃহস্পতিবার ভূতনি ফিরলেন টুটু খাতুন। এদিন ভূতনি ব্রিজের কাছে ফুটফুটে সদ্যোজাতকে কোলে নিয়ে নৌকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন সদ্য মা হওয়া ২৪ বছরের ওই যুবতী। বিষয়টি নজরে আসতেই পাশে দাঁড়ায় মালদহ জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলাশাসক (স্বাস্থ্য) অনিরুদ্ধ নন্দী নবজাতকের মাথায় ছাতা ধরেন। ওই প্রসূতি ও তাঁর নবজাতকের জন্য আলাদা নৌকার ব্যবস্থা করা হয়। সঙ্গে শিশুর জন্য ডায়াপার, পরিবারের জন্য দিয়ে দেওয়া হয় খাদ্যসামগ্রী। প্রশাসনের ভূমিকায় খুশি হলেও দুশ্চিন্তা ঘুচছে না ভূতনির উত্তর চণ্ডীপুরের আড়সইয়া গ্রামের বাসিন্দা ওই যুবতী ও তাঁর মায়ের। 

Advertisement

এদিন ভূতনি ব্রিজের পাশে কাপড়ের ছাউনির নীচে বসে টুটু খাতুন নামে ওই যুবতী বলেন, স্বামী মারুন শেখ কেরলে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে গিয়েছেন। দশদিন আগে প্রসব যন্ত্রণা উঠলে প্রশাসন নৌকায় করে নিয়ে এসে মানিকচক হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করে। গত সোমবার সেখানেই আমার পুত্রসন্তান হয়। হাসপাতাল থেকে ছুটির পর কোথায় যাব, প্রশাসনের তরফে জানতে চাওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, চাইলে আমি ত্রাণ শিবিরে থাকতে পারি। কিন্তু মায়ের কাছে থাকলে কিছুটা দুশ্চিন্তা কম হবে, সেকারণে বাড়িতে ফিরছি। হাসপাতাল থেকে নাতিকে বাড়ি নিয়ে যেতে নৌকায় চেপে এদিন ভূতনি ব্রিজের ঘাটে এসেছিলেন টুটু খাতুনের মা রুলেখা খাতুন। বললেন, মানিকচকের জালালপুরে বিয়ে হয়েছে মেয়ের। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকে আমার কাছেই থাকে। ঘরের ভিতর এখনও বন্যার জল রয়েছে। সঙ্গে সাপ-পোকামাকড়ের ভয়। তা সত্ত্বেও মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। ওদের ত্রাণশিবিরে রেখে বাড়িতে আমার মন বসবে না। 
এদিকে, মথুরাপুর মডেল হাইস্কুলের ত্রাণশিবিরে গর্ভস্থ সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর অপেক্ষায় দিন গুনছেন নাকিটোলার বাসিন্দা ইসফা খাতুন, উত্তর চণ্ডীপুরের রুলেখা বিবি। ইসফা বলেন, স্বামী অন্ধ্রপ্রদেশে কাজে গিয়েছেন। একদিকে বন্যা, তার উপর স্বামী বাইরে। চিন্তা হওয়া তো স্বাভাবিক। তবে প্রশাসন ভরসা জোগাচ্ছে। ডাক্তারবাবু মাঝেমধ্যে এসে দেখে যাচ্ছেন। দুধ-ডিম পাচ্ছি। রুলেখার স্বামী কাজে গিয়েছেন গুজরাতে। এতবড়ো বন্যায় বাড়ি-ঘর ভেসে গেলেও ফিরতে পারেননি। রুলেখা বলেন, আমার আড়াই বছরের একটি ছেলে রয়েছে। সে জলে ডোবা বাড়িতেই পরিবারের অন্যদের সঙ্গে রয়েছে। প্রশাসন আমাকে ত্রাণশিবিরে নিয়ে এসেছে। সবটা ভালোয় ভালোয় যাতে মেটে, সেটাই চাইছি। অতিরিক্ত জেলাশাসক (স্বাস্থ্য) অনিরুদ্ধ নন্দী বলেন, বন্যা দুর্গত এলাকার অন্তঃসত্ত্বাদের চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন তাদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে। সময়মতো তাঁদের পাঠানো হচ্ছে হাসপাতালে। বন্যার মধ্যে ৩০টিরও বেশি সন্তান প্রসব হয়েছে। মা ও সদ্যোজাত শিশুরা সুস্থ আছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ