Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আদিবাসী ছাত্রীকে ধর্ষণ-খুন: ২ সহকর্মীর বিরুদ্ধে ফাঁসানোর অভিযোগ অভিযুক্তের, সাতজনের সাক্ষ্যদান পকসো আদালতে

আদিবাসী নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় বুধবার রামপুরহাট আদালতের পকসো কোর্টে সাক্ষী দিলেন সাতজন। যার মধ্যে স্কুলের দুই ছাত্র ছিল।

আদিবাসী ছাত্রীকে ধর্ষণ-খুন: ২ সহকর্মীর বিরুদ্ধে ফাঁসানোর অভিযোগ অভিযুক্তের, সাতজনের সাক্ষ্যদান পকসো আদালতে
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: আদিবাসী নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় বুধবার রামপুরহাট আদালতের পকসো কোর্টে সাক্ষী দিলেন সাতজন। যার মধ্যে স্কুলের দুই ছাত্র ছিল। অভিযোগকারীর আইনজীবীদের দাবি, তিনজনই মামলার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এদিকে এদিনও আদালত থেকে জেলে নিয়ে যাওয়ার সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, পান্থ দাস ওরফে নারায়ণ দাস ও কৃষেন্দু দাস (দুজনেই অভিযুক্ত স্কুলের শিক্ষক) ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসিয়েছে। যদিও ওই দুই শিক্ষক অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে পাল্টা দাবি করেছেন। 

Advertisement

এদিন ছিল এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের পঞ্চম দিন। সকাল এগারোটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ চলে। অভিযোগকারীর আইনজীবী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের স্কুলের দুই ছাত্র এদিন সাক্ষ্য দিয়েছে। যারা শেষের দু’ দিন ওই ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষককে দেখেছিল। এছাড়া শিক্ষকের পরিচারিকা, যাঁর সঙ্গে অভিযুক্ত অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন, তাঁর বান্ধবী সাক্ষ্য দিয়েছেন। খুনের পর শিক্ষক ওই বান্ধবীর মোবাইলে ফোন করে পরিচারিকাকে তার বাড়ি আসতে বলে। সেই সঙ্গে যেদিন ছাত্রীর বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ, তার প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক সাক্ষ্য দিয়েছেন। রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শোভন দে সাক্ষ্য দিয়েছেন। দেহ মেডিকেলে নিয়ে আসার পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছিলেন সিএমওএইচ। এছাড়া পরিবারের পক্ষে যিনি এফআইআর লিখে দিয়েছিলেন, তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন। ছাত্রীকে অপহরণ করে বীরচন্দ্রপুর গিয়েছিল অভিযুক্ত। ফেরার পথে তারাপীঠের একটি দোকানে কাপড় কেনে সে, সেই দোকানের আরও এক সেলস গার্ল সাক্ষ্য দিয়েছেন। অভিষেকবাবু বলেন, এদিন অভিযুক্তর আইনজীবী সশরীরে আদালতে আসতে পারেনি। তবে অনলাইনে ছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার এদিনের সাক্ষীদের ক্রশ করা হবে। 
এদিকে সন্ধ্যায় আদালত থেকে জেলে নিয়ে যাওয়ার পথে সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে অভিযুক্ত শিক্ষক বলে, পান্থ দাস ও কৃষেন্দু দাস আমাকে ফাঁসিয়েছে। এর আগে তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছিলেন। যদিও কৃষেন্দুবাবু বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আড়াই বছর আগে এই স্কুলে এসেছে। আর আমি ২৪ বছর ধরে এই স্কুলে শিক্ষকতা করছি। ছাত্র এবং অভিভাবকরা আমাকে ভালোভাবেই চেনে। ওই শিক্ষক বিচার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করার উদ্দেশে এইসব বলছে হয়তো। আর বললেই তো হবে না, তাকে প্রমাণ করতে হবে। অন্যদিকে রামপুরহাট ১ পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ তথা এলাকার তৃণমূল নেতা পান্থ দাস বলেন, অভিযোগ ভিত্তিহীন। 
উল্লেখ্য, ছাত্রী নিখোঁজের পর এই শিক্ষককে থানায় তুলে এনে জেরা করে ছেড়ে দিয়েছিল পুলিশ। পরে ছাত্রীর দেহ উদ্ধারের পর আদিবাসীরা আন্দোলনে নেমে দাবি করেছিল, পান্থ দাস ওই শিক্ষককে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। তাঁরা পুলিশের কাছে সেই সময়কার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ্যে আনার দাবি করে। এদিন অভিযুক্ত শিক্ষক সেই পান্থ দাসের নাম নেওয়ায় রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ