নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: প্লাস্টিক আবর্জনা প্রক্রিয়াকরণে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে রানিগঞ্জ ব্লকের জেমারি গ্রাম পঞ্চায়েত। এই সাফল্য নজর কেড়েছে পঞ্চায়েত দপ্তরেরও। বুধবার দুর্গাপুরের সৃজনী হলে পঞ্চায়েত দপ্তরের উদ্যোগে একটি কর্মাশালা করা হয়। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা থেকে পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানেই পুরস্কৃত করা হয় জেমারি গ্রাম পঞ্চায়েতকে। মূলত স্বচ্ছতা অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের জন্য এই স্বীকৃতি।
পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। সব্জির খোসা বা আবর্জনা বাড়িতে জমা করে রেখে একসাথে ফেলার অভ্যাস গ্রামের মানুষের ছিল না। দীর্ঘদিনের অভ্যাস মতো ঘরের সামনের ফাঁকা জায়গাতেই ছুড়ে ফেলত সাধারণ মানুষ। যার জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ত নিকাশি নালা। স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়েই তাই বাড়ি বাড়ি আবর্জনা সংগ্রহ করার পক্রিয়া শুরু করে পঞ্চায়েত। তারপরই প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু একটি পঞ্চায়েত এলাকা থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহ করে প্ল্যান্ট চালানো অসম্ভব তাই পাশ্ববর্তী পঞ্চায়েত এলাকাকেও আর্জি করা হয়। তাঁদের সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে। তারপর এলাকার পাঁচটি পঞ্চায়েত থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহ শুরু হয়। প্লাস্টিক দিলে মিলছে টাকাও। সেই প্লাস্টিক আবার কারখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে প্লাস্টিক বোতলগুলির প্রসেসিং হয়ে উপজাত পদার্থ সংগ্রহ করে নেয় একটি বেসরকারি সংস্থা। তারা তার জন্য পঞ্চায়েতকে অর্থও দেয়।
পঞ্চায়েত প্রধান রুমা মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, মানুষকে যাতে উন্নত পরিষেবা দিতে পারি। এই কাজে সাফল্য আসার পর এবার সিঙ্গেল ইউজড প্লাস্টিক প্রসেসিং করার ইউনিটও বসাতে চলেছে জেমারি পঞ্চায়েত। তাই কারখানার বিদ্যুতের লোড বাড়ানোর জন্য দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। সেখানে সেই প্লাস্টিক প্রসেসিং করে নীল রাস্তা তৈরি করা হবে।-নিজস্ব চিত্র