Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভোটার তালিকার দুই জায়গাতেই রানাঘাটের পঞ্চায়েত সদস্যর নাম

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু রানাঘাট-২ ব্লকের রঘুনাথপুর-হিজুলি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের গত বোর্ডের প্রধান তথা বর্তমান সদস্য নির্মল কর্মকার।

ভোটার তালিকার দুই জায়গাতেই রানাঘাটের পঞ্চায়েত সদস্যর নাম
  • ২৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: যখন রাজ্যে ভূতুড়ে ভোটার নিয়ে ক্রমাগত সরব তৃণমূল কংগ্রেস তখন তাদেরই প্রাক্তন প্রধান, তথা বর্তমান পঞ্চায়েত সদস্যর নাম রয়েছে দুই জায়গায়! বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু রানাঘাট-২ ব্লকের রঘুনাথপুর-হিজুলি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের গত বোর্ডের প্রধান তথা বর্তমান সদস্য নির্মল কর্মকার। ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। যদিও তৃণমূল দলমত নির্বিশেষে এক ব্যক্তির একাধিক জায়গায় ভোটার তালিকায় নাম বাদের পক্ষেই সরব হয়েছে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সাল থেকে বর্তমান বোর্ড পর্যন্ত রঘুনাথপুর হিজুলি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য নির্মলবাবু। এরমধ্যে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত  তিনি ওই পঞ্চায়েতের প্রধানের দায়িত্বও সামলেছেন। ২০২৩ পঞ্চায়েত নির্বাচনেও তিনি জিতে ওই পঞ্চায়েতের সদস্য হয়েছেন।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি রানাঘাটে ভূতুড়ে ভোটার চিহ্নিত করতে দলীয়ভাবে সার্ভে করছে তৃণমূল। তৃণমূলকে রাজনীতির প্যাঁচে ফেলতে নির্মল কর্মকারের উদাহরণ সামনে এনেছে বিজেপি। তাদের দাবি, তৃণমূলের ওই পঞ্চায়েত সদস্যের নাম রয়েছে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী রানাঘাট পুর এলাকাতেও। হিজুলি ছাড়াও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার তিনি। শুধু তাই নয়, দুই জায়গায় পৃথক পৃথক নম্বরের ভোটার কার্ড ব্যবহার হয়েছে। ফলে হিজুলির প্রাক্তন প্রধান রানাঘাট শহরেও একপ্রকার  ‘ভূতুড়ে’ ভোটার।  এ বিষয়ে বিজেপির বক্তব্য, ভুয়ো ভোটার খুঁজতে তৃণমূল পথে নামলেও আদতে তাদের দলেরই লোকজন এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। এতদিন সেই সমস্ত ভূতুড়ে ভোটার কাজে লাগিয়েই রাজনীতির ফসল তুলেছে ঘাসফুল শিবির। বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট পুরসভার একমাত্র বিজেপি কাউন্সিলর কামনাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, সাধারণত ভোটার কার্ডের নাম তোলা হয় ব্লক স্তর থেকে। ব্লক স্তরের প্রশাসনিক কর্তারা এখন তৃণমূলের দলদাস হয়ে এই কাজ করছে। দেখা যাচ্ছে, একজন পঞ্চায়েত প্রশাসনের জনপ্রতিনিধি হয়ে দু’জায়গার ভোটার। এই সমস্ত ভূতুড়ে ভোটারের উপর ভর করে যদি তৃণমূল ভাবে ২০২৬ এ ক্ষমতায় আসবে তাহলে তারা ভুল ভাবছে।  যদিও অভিযোগ প্রসঙ্গে রানাঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান তথা রানাঘাট শহর তৃণমূলের নেতা কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যাতে কোনও ব্যক্তির নাম দু›জায়গায় না থাকে সেই নিয়েই তো আমাদের আন্দোলন। আমরা এলাকাভিত্তিক সেই সমস্ত নাম চিহ্নিত করছি রাজনৈতিক দলমত নির্বিশেষে এবং তা প্রশাসনের কাছে তুলে দিচ্ছি। যাতে অস্তিত্ববিহীন, মৃত এবং একাধিক জায়গায় থাকা নামগুলি কেটে বাদ দেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে হিজুলি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রূপঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যদি এরকম হয় তাহলে এক জায়গা থেকে নিশ্চয়ই তাঁর নাম কাটা যাবে। 
যদিও ওই পঞ্চায়েত সদস্য নির্মলবাবু বলেন, বিষয়টি আমি জানতাম না। দু›জায়গায় আমার নাম রয়েছে এটা জানার পর একটি জায়গা থেকে নাম বাতিলের জন্য আবেদন করেছি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ