Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রানাঘাট হাসপাতালে ইউএসজির জন্য ডেট মেলে ৬ মাস বাদে, বন্ধ এক্স রে

চিকিৎসক সঙ্কট। রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে আল্ট্রা সোনোগ্রাফির (ইউএসজি) ডেট মিলছে ছ’ মাস পর। আউটডোরে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের চূড়ান্ত হয়রানিরশিকার হতে হচ্ছে।

রানাঘাট হাসপাতালে ইউএসজির জন্য ডেট মেলে ৬ মাস বাদে, বন্ধ এক্স রে
  • ৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: চিকিৎসক সঙ্কট। রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে আল্ট্রা সোনোগ্রাফির (ইউএসজি) ডেট মিলছে ছ’ মাস পর। আউটডোরে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের চূড়ান্ত হয়রানিরশিকার হতে হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রায় তিন মাস ধরে হাসপাতালে এক্সরেবন্ধ। পুরনো মেশিন বদলে ডিজিটাল মেশিন বসানো হচ্ছে বলেই বন্ধ পরিষেবা। 

Advertisement

রানাঘাটের চারটি ব্লক মিলিয়ে সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র রানাঘাট মহকুমা হাসপাতাল। দৈনিক কয়েক হাজার রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন।অথচ সেখানেই ইউএসজি-র মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা কার্যত ধুঁকছে। হাসপাতালের একটি সূত্র বলছে, ইউএসজি বিভাগে দু’ জন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু রয়েছেন মোটে একজন। সপ্তাহে চার দিন তিনি থাকেন। দৈনিক গড়ে পঞ্চাশ জন রোগীর ইউএসজি করেন তিনি। এই হিসেবে প্রতিমাসে এক হাজারের কাছাকাছি ইউএসজি হয় বর্তমানে। কিন্তু রোগীর চাপ প্রায় দ্বিগুণ। ফলে দু’ জন চিকিৎসক ছাড়া বাধাহীন পরিষেবা দেওয়া এক প্রকার অসম্ভব। কিন্তু তা না থাকায় ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। হাসপাতালের কর্মীসের একাংশের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক আসেনি। বহির্বিভাগে চিকিৎসা করানোর পর ইউএসজি করতে চেয়ে আবেদন করলেডেট মিলছে ছয় মাস পর। কারণ ইন্ডোরের রোগীদের পরিষেবা দিতে হয় আগে। ওপিডি গুরুত্বের তালিকায় দ্বিতীয় সারিতে। ফলে বহির্বিভাগে চিকিৎসা করে ইউএসজি করতে চাওয়া গরিব সাধারণ মানুষ তীব্র ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেককেই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বিপুল টাকা খরচ করে করতে হচ্ছে পরীক্ষা। 
সমস্যা রয়েছে এক্সরে বিভাগেও। দীর্ঘদিন রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে এক্সরে করা হতো একটি মান্ধাতার আমলের মেশিনে। সেটি দেহ রাখায় তিন মাস ধরে ভুগতে হয় রোগীদের। অবশেষে দিন কুড়ি আগে নতুন ডিজিটাল মেশিন এসে পৌঁছেছে। কিন্তু তা এখনও চালু করা যায়নি। এক্সরে রুমের সংস্কারের কাজ চলায় পিছিয়ে গিয়েছে মেশিন ইনস্টলেশন। রোগীরা চাইছেন, আর বিলম্ব না করে দ্রুত পরিষেবা চালু করা হোক। 
সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালের সুপার প্রহ্লাদ অধিকারী। তিনি বলেন, আমরা ইউএসজির জন্য চিকিৎসক চেয়েছি। আশা করছি তা পাওয়া যাবে। অন্তর্বিভাগে রোগীদের পরিষেবা আগে দেওয়া প্রয়োজন। তাই বহির্বিভাগের রোগীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে অনেকদিন। তবে এক্সরে মেশিনের সমস্যা মিটে গিয়েছে। সংস্কারের কাজ হচ্ছিল। নতুন ডিজিটাল মেশিন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ