Bartaman Logo
৭ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন: পুলিশকে কাজে লাগিয়ে ভোট লুট বিজেপির, অভিযোগ বিরোধীদের

বোমা-গুলির আওয়াজ নেই। রক্তপাতের ঘটনাও ঘটেনি। তাসত্ত্বেও মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর কেন্দ্রের উপনির্বাচন নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন: পুলিশকে কাজে লাগিয়ে ভোট লুট  বিজেপির, অভিযোগ বিরোধীদের
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর: বোমা-গুলির আওয়াজ নেই। রক্তপাতের ঘটনাও ঘটেনি। তাসত্ত্বেও মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর কেন্দ্রের উপনির্বাচন নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। ভোটারদের কাছ থেকে বুথ স্লিপ কেড়ে নিয়ে ভোট না দিয়েই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এক-দু’টি জায়গা নয়, দুই বিধানসভার বিস্তীর্ণ এলাকায় এই ঘটনার অভিযোগ এসেছে। বহিরাগতরা দিনভর ভোটের ময়দানে দাপিয়ে বেড়িয়েছে। ৭০ শতাংশের বেশি বুথে বিরোধীদের পোলিং এজেন্ট ছিল না। হাতে কালি লাগিয়ে ভোটারদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রেজিনগরের কাপাসডাঙা এলাকায়। নন্দীগ্রামের ভীমকাঁটা, কালীচরণপুর পঞ্চায়েতের বারুণি, সামসাবাদের সরবেড়িয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় ভোটলুটের অভিযোগ ওঠে। বিজেপির লোকজন এজেন্টদের বসতে বাধা দিয়েছিল বলে একযোগে অভিযোগ করেছেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান এবং সিপিআই প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের প্রার্থী এতেসামুল হক। তাঁর বক্তব্য, নন্দীগ্রামে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। ভোটে তিনিই জয়ী হতে চলেছেন।

Advertisement

রেজিনগরের ক্ষেত্রেও মমতা তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম এবং ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের প্রার্থী শফিউজ্জামান শেখ পৃথক ভাবে অভিযোগ করেছেন, সিংহভাগ বুথ থেকেই তাঁদের এজন্টদের বর করে দেওয়া হয়েছে। একই অভিযোগ করেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী গোলাম নবি আজাদ। ভোট অবাধে হচ্ছে না, এই অভিযোগ তুলে রেজিনগর থানার সামনে ধর্নায় বসেন কংগ্রেস প্রার্থী আবদুল্লাহ কাফি। অপরদিকে রেজিনগর কেন্দ্রে পুলিশের মদতে ভোট সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বহরমপুরে জেলাশাসদকের দপ্তরে সামনে বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরি। রেজিনগরে পুলিশের সঙ্গে বচসার পর হাতাহাতিতে জড়িয়ে যান আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা বিধায়ক হুমায়ূন কবীর। নির্বাচনি বিধিভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে আটক করে রেজিনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যায় ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁকে। বিরোধীদের তরফে বিস্তর অভিযোগ থাকলেও, বিজেপির নন্দীগ্রামের প্রার্থী হাসিরানি রথ এবং রেজিনগরের প্রার্থী শাখারভ সরকার দু’জনেই বলেছেন, ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তাঁদের জয় নিশ্চিত। 
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে ৭৯.৩৯ এবং রেজিনগর কেন্দ্রে ৭৮.৪২ শতাংশ ভোট পড়েছে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচন করানোর দাবি জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁর কথায়, উপনির্বাচনে ব্যাপক মাত্রায় ভোট লুট ও সন্ত্রাস চলেছে। গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, বিজেপির কার্যকলাপে গণতন্ত্র কলঙ্কিত হল। পুলিশ বিজেপির দলদাসে পরিণত হয়েছে। মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, উপনির্বাচনে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের ভোটার। এদিন নন্দনায়কবাড় প্রাথমিক স্কুলের বুথে ভোট দেন তিনি। তিনি বলেন, উপনির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবেই হচ্ছে। ২০১৬ সালে ৮২ হাজার ব্যবধানের রেকর্ড ভাঙবে এবারের মার্জিন। ভবানীপুরের বিধায়ক হলেও, জীবনের শেষদিন পর্যন্ত নন্দীগ্রামের ভোটার হিসেবেই থাকতে চান বলে এদিন অঙ্গীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী।  ভোট দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ