Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিজেদের সমিতিকেও উন্নয়নে অর্থ দেননি রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ! হতাশ পদ্ম শিবিরের নিচুতলা, কটাক্ষ তৃণমূলের

গোটা রাজ্যের নিরিখে রানাঘাটই তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি। সাংসদ থেকে বিধায়ক, একাধিক পঞ্চায়েত থেকে একটি পঞ্চায়েত সমিতি পর্যন্ত রয়েছে তাদের দখলে।

নিজেদের সমিতিকেও উন্নয়নে অর্থ দেননি রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ! হতাশ পদ্ম শিবিরের নিচুতলা, কটাক্ষ তৃণমূলের
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: গোটা রাজ্যের নিরিখে রানাঘাটই তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি। সাংসদ থেকে বিধায়ক, একাধিক পঞ্চায়েত থেকে একটি পঞ্চায়েত সমিতি পর্যন্ত রয়েছে তাদের দখলে। অথচ সেই পঞ্চায়েত সমিতিকেই কানাকড়ি দেন না বিজেপির সাংসদ! যা নিয়ে আক্ষেপের সুর গেরুয়া শিবিরের অন্দরেই। 

Advertisement

রানাঘাটে নিজেদের দখলে থাকা পঞ্চায়েত সমিতিকেই উন্নয়নের কাজে সাংসদ তহবিল থেকে ১ টাকাও দেন না বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। যা নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ এবং হতাশ গেরুয়া শিবিরের নিচুতলা এবং সমিতির একাংশ। তাদের এক নেতার কথায়, ‘জগন্নাথবাবু অন্য দলের থেকে নির্বাচিত হলে বুঝতাম যে তিনি আমাদের পঞ্চায়েত সমিতিকে টাকা দেবেন না। কিন্তু শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতি বিজেপি পরিচালিত। আমাদের সভাপতি রয়েছে টেন্ডার কমিটিতে। তা সত্ত্বেও উনি গত দু’ বছরে উন্নয়নের কাজে একটি টাকাও দেননি আমাদের। এটা তো কাম্য নয়। উনি রাজ্য সরকারের অধীনস্থ একটি সংস্থাকে দিয়ে কাজ করান। 
দলের সাংসদ যে কানাকড়ি দেন না, তা স্বীকার করে নিয়েছেন শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নৃপেন বিশ্বাস। তিনি বলেন, এটা ঠিক যে, সাংসদ তহবিলের টাকা আমাদের কাছে আসে না। তবে তার পিছনে কিছু কারণ রয়েছে। আগের টার্মে কিছুদিন আমরাই ক্ষমতায় ছিলাম। তখন শেষবার জগন্নাথবাবু একটি বাতিস্তম্ভ বসানোর টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি ওঁর সঙ্গে আলোচনা করব। সাংসদ তহবিলের টাকা থেকে কেবল পঞ্চায়েত সমিতি নয়, উন্নয়নও বঞ্চিত হচ্ছে বলে দাবি করে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তৃণমূলের উত্তম বিশ্বাস বলেন, উনি আদৌ বছরে পাঁচ কোটি টাকা খরচ করেন কি না সন্দেহ। ওঁর বাড়ির সামনের রাস্তাটা পর্যন্ত রাজ্য সরকারকে বানিয়ে দিতে হয়েছে। কীভাবে আশা করব উনি টাকা দেবেন? 
নিজেদের দখলে থাকা পঞ্চায়েত সমিতি আত্মনির্ভর নয় দাবি করে, টাকা না দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নেন জগন্নাথ সরকার নিজেও। তিনি বলেন, আগে তাদের টাকা দিয়ে দেখেছি। কাজ হতে অনেক বিলম্ব হয়। সমিতি আত্মনির্ভর নয়। সেটি আমাদের দখলে থাকলেও উপ-সমিতিগুলি তৃণমূলের দখলে। তাই আমি রাজ্য সরকারের একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে দিয়ে কাজ করাই। তাদের পরিকাঠামো অনেক ভালো। সরকারের অধীনস্থ হওয়ায় তাদের কাজের মান ভালো করার প্রচেষ্টা থাকে। তাছাড়া সাংসদ তহবিল থেকে কাজ হচ্ছে কি না, সেটা বড় কথা। কার মাধ্যমে হল তার গুরুত্ব নেই। শান্তিপুরের তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী কটাক্ষ করে বলেন, দলের লোকজন হয়ত চোর। তাই জন্যে বিজেপির সাংসদ টাকা দেন না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ