সংবাদদাতা, রামপুরহাট: প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে আট বছর পর নবরূপে ফিরছে রামপুরহাটের একমাত্র সাংস্কৃতিক মঞ্চ রক্তকরবী। কাল, মঙ্গলবার সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে আধুনিক মানের এই মঞ্চ। শুক্রবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত সহ বিভিন্ন কাউন্সিলারদের পাশে বসিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনটাই জানান বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। ফের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ঘটতে চলায় খুশি এলাকার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ।
বীরভূম জেলার নাট্য ও সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম কেন্দ্র রামপুরহাট। ১৯৯৫ সালের টাউন হল কর্তৃপক্ষের দান করা ১৫ কাঠা জায়গায় রক্তকরবী মঞ্চ নির্মাণ কাজের শিলান্যাস করেন তৎকালীন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী তপন রায়। ২০০৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সেই অসম্পূর্ণ রক্তকরবী মঞ্চের উদ্বোধন করেন চিত্র পরিচালক তরুণ মজুমদার। ৫২৬ আসন বিশিষ্ট মঞ্চ পর্যাপ্ত আলো, পাখা ও সাউণ্ড সিস্টেম ছাড়াই পথ চলা শুরু করেছিল।
২০১৭ সালে রাজ্যের আর্থিক অনুমোদন ছাড়াই মঞ্চ আধুনিক মানের গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন পুরসভার তৎকালীন পুরপ্রধান। ব্যয় ধার্য হয়েছিল প্রায় ৯ কোটি টাকা। সাংসদ শতাব্দী রায় সেইসময় ৬৬ লক্ষ ও পুর দপ্তর থেকে প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ১২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেই টাকায় মঞ্চের উপরের টিন বদলে অ্যাসবেসটস বসানো, অডিটোরিয়ামের চার দেওয়াল ছাড়াও সিলিংএ উন্নত মানের ম্যাগনেসিয়াম বোর্ড, ব্যালকনি, সেন্ট্রাল এসি ও বাইরের লুক পরিবর্তন করা হয়। এরপরই আর্থিক জোগানের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় মঞ্চ সংস্কারের কাজ।
পুরসভা সূত্রে খবর, রাজ্যের আর্থিক অনুমোদন ছাড়াই সংস্কারের কাজে হাত দেওয়ায় ওই অবস্থা হয়েছিল। টাকার অভাবে সেন্সর থেকে শুরু করে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা, দর্শকদের বসার আসন, লাইট এবং ডিজিটাল সাউণ্ড সিস্টেম সহ কিছুর কাজই বাকি ছিল। এতদিন অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে ছিল রক্তকরবী। এদিকে, মঞ্চের অভাবে শহরের সাংস্কৃতিক চর্চাও তলানিতে ঠেকেছিল। মঞ্চের জন্য অর্থ চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী থেকে পুরমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিধায়ক ও পুর চেয়ারম্যান।
গত বছরের জানুয়ারিতে বোলপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রক্তকরবীর বিষয়টি তুলে ধরেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। মুখ্যমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেন। সেইমতো এবছরের শুরুতে ইউডিএমএ থেকে দু’কোটি টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দেয় রাজ্য। তার মধ্যে প্রায় ৯৯ লক্ষ টাকা পায় পুরসভা। সেই টাকায় সিভিল ওয়ার্ক ছাড়া অন্য কোনও কাজ হয়নি। গত জুন মাসে শতাব্দী রায় তাঁর সাংসদ তহবিল থেকে ৯৫ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা বরাদ্দ করেন। পরবর্তীতে পঞ্চদশ অর্থ কমিশন থেকে ৫১ লক্ষ ও পুরসভা ধার দেয় প্রায় ৮০ লাখ টাকা। পুর চেয়ারম্যানের দাবি, আসন সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮৫০।
বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ইউডিএমএ থেকে বাকি টাকা দ্রুত চলে আসবে। তখন পুরসভার দেওয়া অর্থ মিটে যাবে। অর্থের যে সমস্যা ছিল সেক্ষেত্রে রাজ্য সরকার ও সাংসদ যথেষ্ট সাহায্য করেছে। এই মঞ্চ চালু হলে সাংস্কৃতিক জগতের মানুষ খুশি হবেন। রামপুরহাটে বড় হলের অভাব মিটবে। আগামী ১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন ও রামপুরহাট গালর্স হাইস্কুলের ১২৫ তম প্রতিষ্ঠা দিবসের দিন এই মঞ্চে অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। শহরের নৃত্য শিল্পী বর্ণালি রায় মণ্ডল, সংগীত শিল্পী সানন্দা দাস মণ্ডলরা বলেন, যে অনুষ্ঠানগুলি এতদিন জায়গার অভাবে আমরা করতে পারতাম না এবার সেগুলি অনায়াসে করা যাবে।