সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নীল-সাদা রঙের গ্লোসাইন বোর্ড বদলে হয়ে গেল গেরুয়া। রামপুরহাট জংশন স্টেশনের এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। রাজ্যের শাসক ও বিরোধী দলগুলির দাবি, এটা গৈরকীকরণের ঘৃণ্য চক্রান্ত। যদিও বিজেপির দাবি, গেরুয়া রঙ ভারতীয়ত্বের প্রতীক। দু’ বছর আগে রামপুরহাট জংশন স্টেশনকে সাজিয়ে তুলতে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। যদিও সেই কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। তারই অঙ্গ হিসেবে রামপুরহাট স্টেশনের ভিতরে থাকা স্টেশন ম্যানেজার, ভিআইপি বিশ্রামালয়, উচ্চশ্রেণির প্রতীক্ষালয়, টিকিট কাউন্টার সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে থাকা একাধিক গ্লোসাইন বোর্ড, যেগুলি এতদিন ছিল নীল-সাদা রঙের, সেগুলো গেরুয়া রঙের করে দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের অনেকেই বলছেন, নীল-সাদা রঙের বোর্ডে কী লেখা আছে তা অনেক দূর থেকে দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে যে রং করা হয়েছে তাতে দূর থেকে লেখা সেভাবে পড়া যাচ্ছে না। কোনও কারণে দৃশ্যমানতা কমে গেলে এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় দূর থেকে নীল-সাদা রং সবচেয়ে আগে চোখে পড়ে। উল্লেখ্য, বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের রংও শুরুতে ছিল নীল-সাদা। পরে তাতেও লাগে গেরুয়া রঙের ছোঁয়া। তখনও বিজেপির বিরুদ্ধে রং নিয়ে রাজনীতির অভিযোগ উঠেছিল। তার আগে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ম্যাসাঞ্জোর ড্যামের রং নীল-সাদা করা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। নীল-সাদা রং নিয়ে আপত্তি জানায় ঝাড়খণ্ড সরকার। এরই মধ্যে এবার রামপুরহাট স্টেশনের গৈরিকীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
হঠাৎ রং পরিবর্তনের কারণ জানতে পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্তকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, স্টেশনে গ্লোসাইন বোর্ডে রঙের কোনও কোড নেই। ফলে রং পরিবর্তনে কোনও অসুবিধে নেই। শুধুমাত্র সিগনালের নীচে, প্ল্যাটফর্মে লোহার ফ্রেমে স্টেশনের নামের ক্ষেত্রে হলুদ ও কালো রঙের কোড রয়েছে। কোনও কালার কোড থাকলে তা ফলো করা হবে।
তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, এটা একটা ঘৃণ্য চক্রান্ত। যেমন চারিদিকে বাংলা ভাষাকে অবদমিত করার চেষ্টা হচ্ছে, তেমনি বাঙালির যে রং সেগুলি পরিবর্তন করে ওদের নিজের মনের মতো করে মানুষের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে। সব জায়গাতেই ওরা জোর করে গেরুয়াকরণের প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। মানুষ কিন্তু প্রত্যাখ্যান করবেন। রামপুরহাট শহর কংগ্রেসের সভাপতি শাহজাদা হোসেন বলেন, অমৃত ভারত প্রকল্পে এই স্টেশনের তেমন কোনও উন্নয়ন হচ্ছে না। কিন্তু হকার উচ্ছেদ ও রেলের জায়গায় বসবাসকারীদের পেটে লাথি মেরে হটিয়ে গৈরিকীকরণ করছে রেল। ফটক দুয়ারে আরওবি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা হয়নি। রেলেগেট নিত্য দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সেদিকে রেলের নজর নেই। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য শান্তনু মণ্ডল বলেন, গেরুয়া রং বিজেপির নয়, ভারতীয়ত্বের প্রতীক। সন্ন্যাসের প্রতীক। তৃণমূল সরকারও তো এ রাজ্যে নীল-সাদা রঙের প্রচলন করেছেন। নীল-সাদা রঙ করলে বাড়ির কর ছাড় দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে। রেলও ভালোলাগার জায়গা থেকে গেরুয়া রং দিতে পারে, এতে সমস্যা কী। -নিজস্ব চিত্র