Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গ্রান্ট মেলেনি এক বছরেও শ্রেণিকক্ষ হয়নি রামপুরহাটের স্কুলে

কোথাও ছাদের কংক্রিটের চাঙড় খসে পড়ছিল। কোথাও দরজার পাল্লা ভেঙে ঝুলছিল।

গ্রান্ট মেলেনি এক বছরেও  শ্রেণিকক্ষ হয়নি রামপুরহাটের স্কুলে
  • ৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কোথাও ছাদের কংক্রিটের চাঙড় খসে পড়ছিল। কোথাও দরজার পাল্লা ভেঙে ঝুলছিল। বর্ষায় স্যাঁতস্যাঁতে শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করতে গিয়ে খুদে পড়ুয়ারা কাহিল হয়ে পড়ছিল। শেষমেশ বাধ্য হয়ে প্রশাসনের নির্দেশে ১৫টি  শ্রেণিকক্ষের দোতলা স্কুল বিল্ডিং পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলা হয়। এরপর নতুন শ্রেণিকক্ষ চেয়ে খোদ শিক্ষামন্ত্রী থেকে জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এক বছরের বেশি সময় পেরোলেও ‘গ্রান্ট’ মিলছে না। এই অবস্থায় সঙ্কটে শিক্ষাঙ্গন। স্কুলে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় ঠেসাঠেসি করে একটি ঘরে হচ্ছে একাধিক শ্রেণির পঠন-পাঠন। এই পরিস্থিতি রামপুরহাটের নামী স্কুল জে এল বিদ্যাভবনের। এক্ষেত্রে প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৫৫ সালে রামপুরহাট জিতেন্দ্রলাল বিদ্যাভবন পথ চলা শুরু করে। শহরের পুরনো স্কুলগুলির মধ্যে অন্যতম জে এল বিদ্যাভবন। আগে দোতলা স্কুলটি ১৫টি শ্রেণিকক্ষ নিয়ে চলত। পরবর্তী সময়ে দু’পাশে শ্রেণিকক্ষ হলেও পুরনো দ্বিতল ভবন ভেঙে পড়তে শুরু করে। স্কুল সূত্রে জানা যায়, তিন হাজারের বেশি পড়ুয়া। অন্য বিল্ডিংয়ে জায়গা অপ্রতুল হয়ে পড়ায় ভগ্নপ্রায় পুরনো বিল্ডিংয়ের নীচের তলায় ক্লাস হতো। কিন্তু নীচে কংক্রিটের চাঙড় খসে পড়তে শুরু করে। বিল্ডিংয়ে ফাটল দেখা দেয়।  তারপরও আতঙ্ক নিয়ে চলছিল পড়াশোনা। অবশেষে প্রশাসনের নির্দেশে সেই বিল্ডিং ভেঙে জায়গা খালি করে নতুন শ্রেণিকক্ষ চেয়ে আবেদন জানায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারপর একবছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। নির্মাণ হয়নি নতুন শ্রেণিকক্ষ। এর মধ্যে একাধিকবার প্রশাসনের নজরে আনা হয় বিষয়টি। কিন্তু এখনও গ্রান্ট না মেলায় সমস্যায় পড়েছে ধারাবাহিক ভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে রাজ্যের মেধা তালিকায় স্থান করে নেওয়া এই স্কুল। পরিস্থিতি যা তাতে ল্যাবরেটরি, প্র্যাক্টিক্যাল রুমে অন্য শ্রেণির ‌‌পড়ুয়াদের ক্লাস করাতে হচ্ছে।  
প্রধান শিক্ষক কৌস্তব দত্ত বলেন, পঞ্চম থেকে দ্বাদশ মিলিয়ে এত ‌পড়ুয়াকে জায়গা দিতে পারছি না। এই স্কুলে রয়েছে ১৭টি রুম। প্রতি শ্রেণি পিছু করে সেকশন। দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১৮টি ঘরের প্রয়োজন। তার উপরে একাদশ ও দ্বাদশের সায়েন্স, আর্টস ও কর্মাসের পডুয়ারা রয়েছে। খুবই সমস্যার মধ্যে ক্লাস চালাতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ চেয়ে সরাসরি শিক্ষামন্ত্রী ও তিনটি কক্ষ চেয়ে জেলা প্রশাসনে আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু মেটেনি সমস্যা। অভিভাবকরা বলেন, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকার জন্য পড়ুয়াদের গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে। তাতে পড়াশোনায় বিঘ্ন হচ্ছে। সমস্যার সমাধানে সরকারের সহযোগীতা প্রয়োজন। 
যদিও চেষ্টা করেও জেলা স্কুল পরিদর্শক সুজিত সামন্তর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে সমস্যার কথা শুনে জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ