সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কখনও ঝেঁপে তো কখনও হাল্কা বৃষ্টি চলছে। এরই মধ্যে শনিবার রাতভর বৃষ্টিতে রামপুরহাট শহরের গুরুত্বপূর্ণ দু’টি রাস্তায় জল জমে যায়। জল ঠেঙিয়ে বাসিন্দাদের যাতায়াতে দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এদিকে দ্বারকা ও ব্রাহ্মণী নদীর জলস্তর বেড়ে কানায় কানায় বইছে। দ্বারকার জল ঢুকেছে চাষের জমিতে। ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। রামপুরহাটের মহকুমা শাসক সৌরভ পাণ্ডে বলেন, রামপুরহাট শহরের দু’টি রাস্তায় জল জমে রয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। পঞ্চায়েত, পুরসভা ও ব্লকগুলিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
শনিবার রাত থেকে কখনও ভারী তো কখনও মাঝারি বৃষ্টি চলছে। রবিবার সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে রামপুরহাটের ফটকদুয়ার যাওয়ার রাস্তা। একাধিক বাড়িতে জল ঢুকে যায়। এই রাস্তা দিয়েই শহরের ১, ১৪, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাড়াও আয়াস ও কুসুম্বা পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা রামপুরহাট শহরে যাতায়াত করেন। অন্যদিকে, এলাকায় থাকা কাঁদরগুলি ছাপিয়ে রামপুরহাট-দুমকা রোড়ের রেলের ছফুঁকো এলাকায় জল জমে যায়। ঝাড়খণ্ড ও বিহারের বহু পুণ্যার্থী বোঝাই গাড়ি এই রাস্তা দিয়েই তারাপীঠে আসা যাওয়া করে। শ্রাবণ মাসের এই সময় তারাপীঠে ভক্ত-পুণ্যার্থীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু রাস্তায় জল জমে যাওয়ায় যাতায়াতে সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা। জমে থাকা জলের কারণে বাস সহ বহু যানবাহন থমকে যায়।
যদিও রামপুরহাট পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত বলেন, রেল চারদিকে পাঁচিল তুলে ঘিরে দিচ্ছে। জল যেতে সমস্যা হচ্ছে। তাতেই ফটকদুয়ারের রাস্তা জলবন্দি হয়ে পড়েছে। পুরসভা কাজ করতে গেলে অবজেকশন দিচ্ছে রেল। আমরা রেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে চিঠি দিয়েছি যাতে সেখানে নিকাশি নালা করা যায়। তিনি আরও বলেন, দুমকা রোডের ছফুঁকো এলাকায় দু’টি পাম্প বসিয়ে জল বের করার কাজ শুরু হয়েছে। এদিকে শনিবার রাতে সিউড়ির তিলপাড়া ব্যারেজ থেকে ২৫ হাজার ৩৬০ কিউসেক জল ছাড়ায় ফুলেফেঁপে উঠেছে ময়ূরাক্ষী। ময়ূরেশ্বরে নদী তীরবর্তী বহু জমি জলের তলায়। তবে গ্রামগুলি জলমগ্ন হওয়ার খবর নেই। এদিকে শনিবার রাতে দ্বারকা নদ ছাপিয়ে জলমগ্ন হয়ে পড়ে তারাপীঠ মহাশ্মশানের একটি অংশ বলে জানান মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়। যদিও ভোর থেকেই জল নামতে শুরু করে। -নিজস্ব চিত্র