


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: চিকিৎসায় গাফলতিতে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠল রামপুরহাটের একটি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে। যার জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। মৃতার পরিবারের লোকজন নার্সিংহোমে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের দাবিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে রামপুরহাট ও মাড়গ্রাম থানার পুলিস এসে অবরোধ তুলে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেয়। প্রায় ২০মিনিট পর অবরোধমুক্ত হয় সড়ক।
নার্সিংহোম সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩টে নাগাদ মাড়গ্রামের মাহিপাড়ার বাসিন্দা বছর ২০-র প্রিয়াঙ্কা খাতুনকে ভর্তি করা হয়। বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ সিজারের মাধ্যমে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। এদিন সকাল ৮টা নাগাদ প্রসূতির মৃত্যু হয়। এরপরই চিকিৎসায় গাফিলতিতে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন মৃতার আত্মীয়-পরিজনরা। জাতীয় সড়কও অবরোধ করা হয়। রামপুরহাট আদালতের আইনজীবী মৃতার মামা মানোয়ার হোসেন বলেন, যে চিকিৎসকের অধীনে ভাগ্নিকে ভর্তি করা হয়েছিল। তিনি ওটি করেই বেরিয়ে যান। তারপর থেকে তাঁর আর দেখা মেলেনি। ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এদিকে সন্ধ্যা থেকে ভাগ্নির অবস্থা ক্রমশ খারাপ হয়। রক্তক্ষরণের পাশাপাশি কাঁপুনি হচ্ছিল। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা গুরুত্ব দেয়নি। রাত ৮টা নাগাদ আবার ওটি করতে হবে বলে জানানো হয়। অপারেশন থিয়েটারে চার ঘণ্টা রাখা হয়। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ চার বোতল রক্ত লাগবে বলায় ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। এরপর আর বাড়ির কাউকে প্রসূতির কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। এদিন সকাল ৮টা নাগাদ গিয়ে দেখা যায় ভাগ্নি মারা গিয়েছে। তিনি বলেন, ভাগ্নি হয়তো রাতেই মারা গিয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবার নামে ব্যবসা করা হলে সমাজের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ওখানে শিশু চিকিৎসকও নেই।
গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে নার্সিংহোমের অংশীদার রিয়াজুল হক বলেন, সন্ধ্যার দিকে প্রসূতির অবস্থা খারাপ হলে মেডিক্যাল বোর্ড বসে পুনরায় অপারেশনের সিদ্ধান্ত হয়। পরিবার সম্মতি দিলেও দেরি করে। পরে চার বোতল রক্তের ব্যবস্থা করা হয়। তারপর আস্তে আস্তে রোগী সুস্থ হতে থাকে। পরে ইউরিন বন্ধ হয়ে যায়। সকালে চিকিৎসকরা এসে রেফার করেন। কিন্তু নামানোর সময়ই রোগীর মৃত্যু হয়। যথেষ্ট চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। নার্সিংহোমের সামনে বিক্ষোভ (বাঁদিকে)। (উপরে) মৃত প্রসূতি প্রিয়াঙ্কা। নিজস্ব চিত্র