সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ভোর থেকে আকাশ কালো হয়ে বৃষ্টি। কখনও হাল্কা, কখনও ভারী। যার ফল, রামপুরহাট শহরে ফিরে এল জমা জলের দুর্ভোগ। ভাসল এমএনকে রোড, চামড়া গুদাম মোড়ের কাছে রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক। জল জমল রামপুরহাট মেডিক্যালের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল চত্বরেও। জল ঢুকে পড়ায় ফের বন্ধ হয়ে পড়েছে পিপিপি মডেলের ডিজিট্যাল এক্স রে বিভাগ। এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডের অলিতে গলিতে জল জমে যায়। যার জন্য শহরের বেহাল নিকাশিকে দায়ী করছেন নাগরিকরা। প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যানকে ফোন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
বর্ষা শুরু হয়নি। তার আগেই বৃহস্পতিবার ভোর থেকে টানা বৃষ্টিতে জল জমায় ব্যাপক দুর্ভোগে পড়তে হয় রামপুরহাটের নাগরিকদের। জলের তলায় চলে যায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ এমএনকে রোড। রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার অন্যতম রাস্তা এটি। তাছাড়া নলহাটি, মুরারই, পাইকর থানা এলাকার কয়েকশো গ্রামের বাসিন্দাদের রামপুরহাট শহরে প্রবেশ পথ এটি। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের অফিসের সামনে হাঁটু সমান জল দাঁড়িয়ে যায়। নিকাশি নালা ছাপিয়ে নোংরা দুর্গন্ধযুক্ত জল ছড়িয়ে পড়ায় অবস্থা দুর্বিসহ হয়ে ওঠে। পথচলতি জন্মেজয় মণ্ডল বলেন, ফি বছর সামান্য বৃষ্টিতেই এই রাস্তার হাল এমন হয়। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না। নোংরা জল মাড়িয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে। একইভাবে গান্ধী পার্ক লাগোয়া ছাড়াও বেশ কিছু ওয়ার্ডের অলিগলিতে নর্দমার জল রাস্তায় উঠে আসে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নে মুখে পুরসভা। এদিন প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে শহরের হাল দেখে পুর চেয়ারম্যানকে ফোন করেন আশিসবাবু। তিনি বলেন, শহরের বিভিন্ন জায়গায় জল জমা নিয়ে চেয়ারম্যানকে ফোন করেছিলাম। যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নর্দমার জল রাস্তার উপর দিয়ে বইছে। নিকাশির হাল খুব খারাপ। পার্কে প্রাতঃভ্রমণকারীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
যদিও চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত বলেন, নিয়মিত শহরের নিকাশি নালা পরিষ্কার করা হয়। তারপরও কিছু মানুষ নালার মধ্যে প্লাস্টিক, নোংরা আবর্জনা ফেলে দিচ্ছে। অথচ প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি আবর্জনা সংগ্রহ করা হয়। তিনি বলেন, বিধায়কের ফোন পাওয়া মাত্রই সাফাই কর্মীদের নালা পরিষ্কারের কাজে নামানো হয়েছে। এমএনকে রোডের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, ওই এলাকাটা নিচু। ওখানে অটোমেটিক পাম্পের মাধ্যমে জল বের করার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ওই রোডের ভাঁড়শালা থেকে সানঘাট হয়ে কাঁদর পর্যন্ত মহানালা নির্মাণের কাজ শেষ হলে এই সমস্যা থাকবে না।
টানা বৃষ্টিতে রামপুরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল চত্বরেও জল জমে যায়। জমা জল পেরিয়ে হাসপাতালে ঢুকতে নাজেহাল হতে হয় রোগী, তাঁদের আত্মীয় ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। মেডিক্যালের সামনে মহানালা সংস্কারের কাজ শুরু হলেও ক্যাম্পাসের ভিতরের নালা আগের মতোই আছে। ফলে নালার জল ঢুকে ফের ডিজিট্যাল এক্স রে পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এমএসভিপি পলাশ দাস বলেন, বৃষ্টি হলেই সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল চত্বর জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। আমরা চাই এর স্থায়ী সমাধান হোক। আসলে অনেক নিচু এলাকায় এই বিল্ডিং হয়ে বসে আছে। ডিজিট্যাল এক্স রে বিভাগে জল ঢুকে পরিষেবা বন্ধ হয়ে পড়েছে। আমরা ওদের অন্য বিল্ডিংয়ে জায়গা দিচ্ছি। তবুও ওদের সরে যাওয়ার আগ্রহ দেখছি না। ফের ওদের সরে যাওয়ার জন্য চিঠি দিচ্ছি।